টাকা তছরূপে অভিযুক্ত বিচারপতি বর্মার অপসারণের ফাইল খুলতে পারে বাদল অধিবেশনেই
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জে যশবন্ত বর্মার (Yashwant Varma)বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির অনুসন্ধান রিপোর্ট আসন্ন বাদল অধিবেশনে সংসদে পেশ করা হবে। গত ৯ এপ্রিল…
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জে যশবন্ত বর্মার (Yashwant Varma)বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির অনুসন্ধান রিপোর্ট আসন্ন বাদল অধিবেশনে সংসদে পেশ করা হবে। গত ৯ এপ্রিল তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এখনও তা গ্রহণ করেননি। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জল্পনা চলছে। সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে গুরুতর বিচারবিভাগীয় দুর্নীতির মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
ঘটনাটি শুরু হয় যখন বিচারপতি বর্মার সরকারি বাসভবন থেকে পুড়ে যাওয়া বড় অঙ্কের নোট উদ্ধার হয়। এই ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি বিস্তারিত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এই রিপোর্ট বাদল অধিবেশনে পেশ হলে সংসদে বড় আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ
বিচারপতি বর্মা ৯ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তা এখনও গ্রহণ না করায় তাঁর অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদত্যাগ গ্রহণ না করা মানে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা বেশি। সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এটি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
দেশের সাধারণ মানুষ বিচারব্যবস্থাকে পবিত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে। কিন্তু এমন ঘটনা সেই আস্থায় আঘাত করে। পুড়ে যাওয়া নোটের ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কীভাবে একজন উচ্চপদস্থ বিচারকের বাসভবনে এতগুলো নোট এল? কারা জড়িত? অনুসন্ধান রিপোর্টে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে বলে জানা গেছে।একজন আইনজীবী বলেন, “বিচারপতিরা সমাজের আয়না।
আরও দেখুনঃ
তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে পুরো ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নড়ে যায়। এখন পূর্ণ জবাবদিহিতা প্রয়োজন। কোনো নরম অবস্থান নেওয়া উচিত নয়।” সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার উভয়েই এই ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।এই মামলা বিচারবিভাগীয় সংস্কার নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।
অনেকে বলছেন, বিচারপতিদের সম্পত্তির হিসাব নিয়মিত পর্যালোচনা করা উচিত। স্বচ্ছতা বাড়াতে আরও কঠোর নিয়ম প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোও এই ইস্যুতে সক্রিয় হয়েছে। বিরোধীরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ চাইছে। বাদল অধিবেশনে রিপোর্ট পেশ হলে দেশবাসী পুরো বিষয়টি জানতে পারবে। যদি অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে তা বিচারব্যবস্থায় একটি বড় উদাহরণ স্থাপন করবে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না এই বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
আরও দেখুনঃ