হাসিমারায় বিমানবন্দর তৈরিতে জমি জরিপের কাজ শেষ
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: মাত্র এক মাসের মধ্যেই হাসিমারায় প্রস্তাবিত অসামরিক বিমান বন্দর তৈরির জন্য জমি জরিপের প্রাথমিক কাজ শেষ করল জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ওই বিমান বন্দরের রানওয়ে ও টার্মিনাল তৈরির জন্য মোট ৩৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। যার মধ্যে ২৭ একর জমি নেওয়া হবে কালচিনি ব্লকের সাতালি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতালি মণ্ডলপাড়া মৌজা থেকে। বাকি ১১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে মধু চা বাগান থেকে।
সাতালি মণ্ডলপাড়ার যে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে রয়েছে কৃষি জমি ও বসত ভিটে। সেখানে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করেন ২২টি পরিবার। আর ঠিক যে জায়গাটিকে রানওয়ের জন্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে চারটি পরিবারের বাড়ি রয়েছে। তবে সরকার যদি ওই ২২টি পরিবারকেই পুনর্বাসন প্যাকেজের আওতায় এনে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়, তবে উন্নয়নের স্বার্থে সবাই জমি ছাড়তে ইচ্ছুক। মণ্ডলপাড়া থেকে হাসিমারা বায়ুসেনা ছাউনির দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার হওয়ায় প্রতিদিন যুদ্ধ বিমানের মহড়ার কান ফাটানো আওয়াজে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এমনকী, ওই এলাকার অনেকেই এখন কানে কম শুনতে পান বলে অভিযোগ।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা সত্যেন মণ্ডল বলেন, ‘উন্নয়নের স্বার্থে ও অসামরিক বিমান বন্দর তৈরির জন্য আমরা যদি সরকারের তরফে পুনর্বাসন ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাই, তবে আমরা জমি ছাড়তে রাজি আছি। আমরা চাই এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ অসামরিক বিমান বন্দর গড়ে উঠুক।’ অপর বাসিন্দা অসীমকুমার মণ্ডল বলেন, ‘গত একমাস ধরে আমাদের মহল্লায় জমি জরিপ চলেছে। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে এখানে একটি অসামরিক বিমান বন্দর গড়া হবে। এমনিতেও যুদ্ধ বিমানের শব্দে আমাদের ওষ্ঠাগত প্রাণ। তাই আমরাও এখান থেকে সরতে চাই। সরকার যদি হাত বাড়ায় আমরাও তবে প্রস্তুত আছি।’ জমি অধিগ্রহণের প্রকল্পের মধ্যেই পুনর্বাসন ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত আছে দাবি করে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘যাঁদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তাঁদের পুনর্বাসনের সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। আমরা কাউকে নিরাশ কিংবা হতাশ করব না।’