Basirhat: মামির সঙ্গে লিভ-ইন ভাগ্নার, পরিণতি দেখে শিউরে উঠছেন সবাই | Basirhat Double Death: Woman, youth Found Dead Amid Alleged Extramarital Relationship
যুবককে খুন করে মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগImage Credit: TV9 Bangla
বসিরহাট: ভাগ্নার সঙ্গে মামির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। এমনকি, ভাগ্নের সঙ্গে অন্য জায়গায় গিয়ে লিভ-ইনও করতেন মামি। শেষপর্যন্ত ভাগ্নাকে খুনের অভিযোগ উঠল মামির বিরুদ্ধে। পরে রেললাইনের ধার থেকে পাওয়া গেল মামির মৃতদেহও। মৃত ভাগ্নের পরিবারের অভিযোগ, মামি গতকাল রাতে ভাগ্নেকে খুন করে আজ (শনিবার) ভোরে ট্রেনের তলায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের। মৃত দু’জনের নাম দেবাশিস মণ্ডল(৩৩) এবং রুনু মণ্ডল(৩৩)।
দেবাশিসের বাড়ি বসিরহাটের ট্যাটরা এলাকায়। রুনু মণ্ডলেরও বাপের বাড়ি সেখানে। ১৪ বছর আগে রুনুর বিয়ে হয় বনগাঁয়। সম্পর্কে রুনু দেবাশিসের মামি হন। রুনুর বিয়ের পর দেবাশিসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই গত কয়েক বছর ধরে দুই পরিবারের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল। গত একমাস আগে মামি ও ভাগ্নে পালিয়ে যান।
গত এক মাস ধরে দুটি পরিবারই তাঁদের খোঁজাখুঁজি করছিল। কিন্তু কোনওরকম খোঁজ করতে পারছিল না। এরই মধ্যে দেবাশিস তাঁর বাবাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তিনি খুব অশান্তিতে আছেন। বাড়ি ফিরতে চান। দেবাশিসের পরিবারের অভিযোগ, গতকাল রাতে রুনু তাঁর বাবাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘দেবাশিসকে মেরে ফেলেছি। এবার আমিও আত্মহত্যা করব।’
এরপর এদিন সকালে রুনুর দেহ পাওয়া যায় বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন অনন্তপুর এলাকায়। এবং দেবাশিসের মৃতদেহ উদ্ধার হয় বসিরহাটের ময়লাখোলা সংলগ্ন এলাকার একটি বাড়ি থেকে। সেখানেই তাঁরা ভাড়া থাকতেন। সেই বাড়ির দরজা ভেঙে দেবাশিসের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বসিরহাট থানার পুলিশ।
কী বলছে দেবাশিসের পরিবার?
রুনুর পরিবারের তরফ থেকে কোনওরকম প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও দেবাশিসের পরিবারের অভিযোগ, রুনুই দেবাশিসক খুন করেছেন। দেবাশিসের কাকা তপন মণ্ডল বলেন, “ভাইপো গতকাল বিকেল তিনটে নাগাদ ফোন করে আমার দাদাকে। ভাইপো তার বাবাকে বলে, ‘আমাকে দুটো-তিনটে তালা মেরে ঘরে আটকে রেখেছে। তুমি আমাকে বাঁচাও।’ তারপর আর ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। সন্ধেবেলায় দাদা আমাকে জানায়। আমরা থানায় যাই। ডায়েরি করি। আমরা জানতাম না, ঠিক কোথায় ভাড়ায় রয়েছে। পুলিশ খোঁজ করে। তবে পায়নি।” তিনি আরও বলেন, “মেয়েটি দাদাকে একবার ফোন করেছিল। সম্পর্ক মেনে নিতে বলেছিল। কিন্তু, দাদা জানিয়েছিল, এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জানতে পারি, মেয়েটি তার বাবাকে ফোন করেছিল। বলেছিল, ওকে মেরে দিয়েছি। এবার আমি মরব। আজকে সকালে শুনলাম, মেয়েটার দেহ রেললাইনের ধারে পাওয়া গিয়েছে। মেয়েটি ভাইপোকে একা মেরেছে, নাকি সঙ্গে কেউ ছিল, তা বুঝতে পারছি না।”
দেবাশিসের মাসি কণিকা মণ্ডল বলেন, “মেয়েটা আমার ছোট ভাইয়ের বউ। দেবাশিস আমার বড়দির ছেলে। সম্পর্কের কথা জানার পর ওদের বোঝাই। দেবাশিসের বাবাও ছেলেকে বুঝিয়েছিল। তখন বোঝেনি। তারপর ছেলেটা গত কয়েকদিন ধরে বাবাকে বলছিল, বাবা আমাকে বাঁচাও। আমি বাড়ি যাব। তারপর কালকে এই ঘটনা ঘটে।”