ডিম-মাছ নেই কেন? মিড-ডে মিল নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ আদালতে
কলকাতা: কলকাতা পুর এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলে ডিম ও মাছের পরিবর্তে রাজমা-ডাল কেন দেওয়া হবে? রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন…
কলকাতা: কলকাতা পুর এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলে ডিম ও মাছের পরিবর্তে রাজমা-ডাল কেন দেওয়া হবে? রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক মামলাকারী। শুধু মেনু বদলই নয়, মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্ব ইসকনের মতো বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া নিয়েও জনস্বার্থ মামলায় গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মামলাকারীর প্রধান অভিযোগ, মিড-ডে মিলে আমিষ খাবারের বদলে নিরামিষ পদ চালুর ফলে পড়ুয়ারা যেমন পুষ্টির নিরিখে পিছিয়ে পড়বে, তেমনই এই সিদ্ধান্তের পেছনে অস্বচ্ছতা রয়েছে। তাঁর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে রান্নার দায়িত্ব দিলে রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীভুক্ত হাজার হাজার মহিলা রাঁধুনি এবং সহায়িকা তাঁদের কাজ হারাবেন। বহু বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কর্মীরা এক ধাক্কায় কর্মহীন হয়ে পড়লে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে।
পুষ্টি বনাম মেনু বিতর্ক
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, ক্রমবর্ধমান শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ডিম বা মাছের মতো প্রাণিজ প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি। সেখানে ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি এবং কোলিনের মতো উপাদান থাকে, যা নিরামিষ খাবারে মেলা কঠিন। শুধু তাই নয়, রাজ্যের দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে রাজমা বা পনিরের মতো পদ সবসময় মানানসই নয়। ফলে খাবারের অপচয় হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকার অবশ্য এই বদলকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। বাজেটে প্রাথমিকে মিড-ডে মিলের মাথাপিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ইসকন অত্যন্ত ‘শুদ্ধ’ ও মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করবে। এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল, “ইসকন রান্না করে খাওয়াবে। আপত্তি থাকলে হরে কৃষ্ণ বলবেন না।”
আগামী মঙ্গলবার শুনানি
শুক্রবার মামলার শুনানি শুরুর আগে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আদালতের কাছে কিছু সময় চেয়ে নেন। সেই আবেদন মঞ্জুর করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী মঙ্গলবার।
মিড-ডে মিলের দায়িত্ব পুরোপুরি বেসরকারি সংস্থার হাতে দেওয়া হবে কি না, এবং শিশুদের পুষ্টির জন্য আমিষ খাবার বজায় থাকবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে শিক্ষামহল ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের।