ডায়াবিটিস, রক্তচাপ, লিভারের রোগ— সব সমস্যার উত্তর এই ফল, পাওয়া যায় শুধু এই মরশুমে
গরম ও বর্ষার মরশুমে বাজারে নানা ধরনের মরশুমি ফলের দেখা মেলে। আম, লিচুর পাশাপাশি এই সময় আর একটি ফল পাওয়া যায়, যা স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনই স্বাস্থ্যগুণেও ভরপুর। তবে এই ফল সারা বছর পাওয়া যায় না। মাত্র দু’মাসের জন্য বাজারে আসে জাম। তাই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরাও এই সময় নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে জাম খাওয়ার পরামর্শ দেন।
কেন উপকারী জাম?
জামে রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম, আয়রন এবং অ্যান্থোসায়ানিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এগুলি শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি কোষকে ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জাম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, হজমশক্তি উন্নত করতে, লিভারের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কেন জামের রং এত গাঢ়?
জামের গাঢ় বেগুনি বা কালচে রঙের পিছনে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন নামের একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এই উপাদান শরীরে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং কোষকে সুরক্ষা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্থোসায়ানিন ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
ডায়াবিটিস ও হজমের জন্য কেন উপকারী?
বিভিন্ন গবেষণায় জানা গিয়েছে, জামের ফল ও বীজে থাকা কিছু প্রাকৃতিক যৌগ শরীরে গ্লুকোজের বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। এই কারণেই ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য জামকে উপকারী ফল হিসেবে ধরা হয়। তবে এটি কোনও ভাবেই ওষুধের বিকল্প নয়।
এছাড়া জামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে জাম খেলে হজম ভালো থাকে এবং পেট পরিষ্কার হতেও সুবিধা হয়।
রক্তচাপ, লিভার ও রোগ প্রতিরোধে জাম
জামে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে জাম খেলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতাও বজায় রাখতে সুবিধা হয়।
ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে
যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্যও জাম একটি ভালো মরশুমি ফল। এতে ক্যালোরি কম এবং ফাইবারের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরার অনুভূতি থাকে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে জাম খাওয়া উপকারী হতে পারে।
মনে রাখবেন, কোনও নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে জাম খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবিটিস বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই খাদ্যতালিকায় জাম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।