প্রায় ২০ ঘণ্টা পরে নিভল হলদিয়া পেট্রোকেমের আগুন, এখনও স্বাভাবিক হয়নি ট্রেন চলাচল
প্রায় ২০ ঘণ্টা পরে অবশেষে নিভল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের আগুন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে পেট্রোকেমিক্যালসের ন্যাপথা পাইপলাইনে। যার জেরে মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বংসী চেহারা নেয় আগুন। এই পাইপলাইন পেট্রোকেমিক্যালস কারখানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলে আগুন নেভানোর কাজ। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন প্রায় ২০ ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন কমপক্ষে ২০। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। মৃতের নাম মানু বিবি( ৩৮)।
আগুন নিভে গেলেও, কোথাও পকেট ফায়ার রয়েছে কি না বুধবার সকালে তা খতিয়ে দেখছেন দমকল কর্মীরা। নতুন করে আবার যাতে আগুন জ্বলে না ওঠে, তার জন্য মাঝে মাঝে জল দেওয়া হচ্ছে ওই এলাকায়। বর্তমানে ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশের বড় বাহিনী। আগুন লাগার কারণ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ বাবে তদন্ত শুরু করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। হাইড্রো টেস্টের মাধ্যমে তদন্ত হবে বলে জানা গিয়েছে কারখানা সূত্রে খবর।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে হাওড়া-হলদিয়া ও হাওড়া-পাঁশকুড়া লাইনে ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি ট্রেনের রুটও পরিবর্তন করা হয়। তবে বুধবার আগুন নিভে যাওয়ার পরেও পুরোপুরি সচল হয়নি ট্রেন পরিষেবা। এ দিন ট্রেন পরিষেরা সঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছিল হলদিয়া টাউনশিপ -দুর্গাচকগামী এক্সাইড রোডও। যার জেরে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় বহু যাত্রীকে।
দুর্ঘটনায় একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে। বিবৃতিতে আহতদের সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলী। তিনি বলেন, ‘ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকতে বলেছেন আমাকে। সেই মতোই কাজ হবে।’ এ ছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য খোলা হয়েছে ত্রান শিবির।
প্রসঙ্গত, পেট্রোকেমিক্যালসের যে ন্যাপথা পাইপলাইনে আগুন লাগে, সেটি কারখানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হলদিয়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিরঞ্জীবপুরে অবস্থিত। ওই এলাকা ঘনবসতি পূর্ণ হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন।