দাম কমতেই সোনা বিক্রির ধুম! লাভের আশায় আমজনতা - 24 Ghanta Bangla News
Home

দাম কমতেই সোনা বিক্রির ধুম! লাভের আশায় আমজনতা

Spread the love

কলকাতা: রেকর্ড ছুঁয়ে সোনার দাম কমতে শুরু করতেই পুরোনো গয়না বিক্রির হিড়িক পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই এখন পুরোনো সোনা…

কলকাতা: রেকর্ড ছুঁয়ে সোনার দাম কমতে শুরু করতেই পুরোনো গয়না বিক্রির হিড়িক পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই এখন পুরোনো সোনা বিক্রি করে নগদ টাকা ঘরে তুলতে চাইছেন। শুক্রবার সকালে এমসিএক্স (MCX) সূচকে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৯৯ টাকার কাছাকাছি লেনদেন হতে দেখা গিয়েছে, যা তার সর্বকালীন রেকর্ডের থেকে বেশ কিছুটা কম।

ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতীয় পরিবারগুলি প্রায় ৫০ টন পুরোনো সোনা বিক্রি করেছে, যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের শুরুতে সোনার দাম সর্বকালীন রেকর্ড ছুঁয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে দাম বেশ কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৪ লক্ষ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে বাজারের একাংশের ধারণা, এই দাম কমে ১.২ লক্ষ টাকায় নেমে আসতে পারে। সেই কারণেই দাম আরও কমার আগে লাভের আশায় পুরোনো গয়না বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেকেই। আইবিজেএ-এর ন্যাশনাল সেক্রেটারি সুরেন্দ্র মেহতা জানিয়েছেন, ভারতীয় ক্রেতারা সোনার এই চড়া দামকে কাজে লাগিয়ে নগদ টাকা ঘরে তুলতে চাইছেন এবং দাম কমার ভয়ে দ্রুত মুনাফা নিশ্চিত করতে চাইছেন।

আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার ওপর চাপ

বিশ্ব বাজারেও সোনার দাম বেশ চাপে রয়েছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হওয়ায় সোনার দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ফিক্সড রিটার্নের আশায় অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগের দিকে বেশি ঝোঁকেন, ফলে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।

লাভবান হচ্ছে রিসাইক্লিং শিল্প

পুরোনো সোনা বিক্রির এই ঝোঁকের ফলে ভারতের অর্গানাইজড গোল্ড রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য শিল্পও দারুণভাবে লাভবান হচ্ছে। লকারে অলসভাবে পড়ে থাকা গয়নাগুলি মূল অর্থনীতিতে ফিরে আসছে এবং তা গলিয়ে বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে ফের জুয়েলারি প্রস্তুতকারকদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। মুথুট এক্সিম জানিয়েছে, তাদের ১০০-র বেশি ‘গোল্ড পয়েন্ট’ নেটওয়ার্কে পুরোনো সোনা জমা পড়ার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থার সিইও কেয়ুর শাহ বলেন, “গ্রাহকরা এখন সংঘবদ্ধ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়িতে পড়ে থাকা সোনা নগদে রূপান্তরিত করতে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।”

দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ হলেও, চাহিদার বেশিরভাগটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৭২.৪ বিলিয়ন ডলারের সোনা আমদানি করেছে। ২০২৫ সালে রিসাইকেল করা বা পুরোনো সোনার পরিমাণ ছিল ১২৫-১৫০ টন। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে চলতি বছর তা বেড়ে ২০০-২৫০ টন হতে পারে বলে শিল্প মহলের অনুমান। ভারতীয় পরিবারগুলিতে আনুমানিক ৩০,০০০ টন সোনা মজুত রয়েছে। ঘরে পড়ে থাকা এই সোনা বাজারে এলে বিদেশ থেকে আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোনা বিক্রি করা কি এখন বুদ্ধিমানের কাজ?

সোনার এই সাম্প্রতিক বিক্রি প্রমাণ করে যে অনেক পরিবারই রেকর্ড দামের সুযোগ নিয়ে মুনাফা করতে চাইছে। তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সাময়িক দাম কমা-বাড়ার ওপর ভিত্তি না করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই সোনা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যাঁরা পুরোনো গয়না আর ব্যবহার করেন না, তাঁদের জন্য এটি নগদ টাকা পাওয়ার একটি ভালো সুযোগ হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এখনও মূল্যবৃদ্ধি, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাজারের অস্থিরতার বিরুদ্ধে একটি বড় এবং অন্যতম বিশ্বস্ত রক্ষাকবচ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *