সাম্বার হরিণকে পোহা খাইয়ে বহিস্কার ফরেস্ট অফিসার
ভোপাল: মধ্যপ্রদেশের বন বিভাগে এক অদ্ভুত ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (Sambar deer)এক ফরেস্ট অফিসারকে সাম্বার হরিণকে পোহা খাওয়ানোর অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,…
ভোপাল: মধ্যপ্রদেশের বন বিভাগে এক অদ্ভুত ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (Sambar deer)এক ফরেস্ট অফিসারকে সাম্বার হরিণকে পোহা খাওয়ানোর অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সাসপেনশন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যপ্রাণীদের মানুষের খাবার খাওয়ানো তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য ক্ষতিকর। এতে প্রাণীরা মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা তাদের বেঁচে থাকার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের একটি অরণ্যাঞ্চলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ফরেস্ট অফিসার নিয়মিতভাবে একটি সাম্বার হরিণকে পোহা খাওয়াতেন। কেউ কেউ এটিকে স্নেহের প্রকাশ বললেও বন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এটিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুসারে, বন্যপ্রাণীদের খাবার দেওয়া বা তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা নিষিদ্ধ। কারণ এতে প্রাণীরা তাদের প্রাকৃতিক খাদ্য খোঁজার অভ্যাস হারিয়ে ফেলে।
আরও দেখুনঃ নাবালিকাকে জোর করে গোমাংস-সৌদিতে বিক্রির হুমকি! যোগী রাজ্যে পুলিশের জালে আরমানের পরিবার
শেষ পর্যন্ত তারা মানুষের কাছে এসে খাবার চায়, যা তাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাম্বার হরিণের মতো বড় প্রাণীরা বনে নানা ধরনের ঘাস, পাতা, ফলমূল খেয়ে বেঁচে থাকে। মানুষের দেওয়া খাবারে লবণ, মশলা বা অন্যান্য উপাদান তাদের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এভাবে খাওয়ালে প্রাণীরা বন্য অবস্থায় ফিরে যেতে পারে না।এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
কেউ কেউ বলছেন, বনকর্মী হয়তো প্রাণীটির প্রতি স্নেহবশত এমন করেছেন। একজন স্থানীয় যুবক বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, বনের কাছে গ্রামের লোকেরা প্রাণীদের খাবার দেয়। এতে ক্ষতি কী?” কিন্তু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা এর বিরোধিতা করছেন। তাঁরা বলছেন, এই ধরনের আচরণ প্রাণীদের মধ্যে ‘হ্যাবিচুয়েশন’ তৈরি করে, অর্থাৎ তারা মানুষকে আর ভয় পায় না।
ফলে রাস্তায় বেরিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এমনকি পর্যটকদের সঙ্গেও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।মধ্যপ্রদেশের বনমন্ত্রক এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনো কর্মী যদি নিয়ম ভঙ্গ করেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সাসপেন্ড হওয়া ফরেস্ট অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁকে শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি নিজের সপক্ষে যথাযথ কারণ দেখাতে না পারেন, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।