TMC Councillor: ৫কোটির গাড়ি চড়েন, তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে সফর! তৃণমূলের এই কাউন্সিলর কোথা থেকে উঠে এসেছেন জানেন? | Kolkata tmc councillor shams iqbal arrested in 70 lakh extortion case complaint by garden reach businessman
শামল ইকবাল, তৃণমূল কাউন্সিলরImage Credit: Facebook
কলকাতা: এই তো সেদিন, যোগা দিবসেও মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরে দু’জনের পিছনেই বসে যোগ দিবস পালন করেছিলেন। নাম লিখিয়েছিলেন ঋতব্রত-শিবিরে। কিন্তু এরই মধ্যে গার্ডেন রিচের এক ব্যবসায়ীকে চমকিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ কলকাতার আরেক তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল। শাম্স কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মহম্মদ শাদাব নামের এক ব্যক্তি।
এই শামস্, এক ঝা চকচকে তরুণ তাজা নেতা! সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রোফাইল যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই রাজনীতির কেরিয়ারে তাঁর ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফচিত্রও অত্যন্ত চমকপ্রদ। গার্ডেনরিচে পুলিশ কর্মী তাপস চৌধুরী খুনে অভিযুক্ত মুন্না ইকবালের ছেলে শামস ইকবাল। বাবার হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে পদাপর্ণ।
২০২১ সালের কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে একমাত্র তৃণমূল প্রার্থী, যিনি কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, মূল বিরোধীদল গুলির কাউকে ভোটে দাঁড়াতে দেয়নি, উল্টো দিকে। সূত্রের খবর, কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক। গার্ডেনরিচ এবং মেটিয়াবুরুজ এলাকায় তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য।
সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে একাধিক বিদেশ যাত্রার ছবি রীতিমতো তাক লাগানোর মতো। প্রোফাইল দেখা যাচ্ছে, বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গেও ছবি রয়েছে শামসের। কোনও রঙিন দুনিয়ার অভিনেতার থেকে কম নন। একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। বছর কয়েক আগে কলকাতা পুরসভায় ফেরারি গাড়ি এনে বিতর্কে জড়িয়ে ছিল এই কাউন্সিলর। গাড়ির মূল্য সে সময়ে ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি ছিল। বাড়ির গ্যারেজে রয়েছে দেশ-বিদেশের কয়েকশো কোটি টাকার গাড়ি।
ফিরহাদ হাকিমের ‘পুত্র’ বলা হয় এই কাউন্সিলরকে। কলকাতা বন্দর এলাকায় বিধানসভার যাবতীয় কাজ ইকবাল দেখেন। ২০২৪ সালে ১৭ মার্চ গার্ডেনরিচে যে বহুতল ভেঙে পড়ে ১৫ জনের মতো মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, তাতে নাম জড়িয়েছিল এই শামসের। আইনি নির্মাণ নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এই শামস ইকবালের ওয়ার্ড ছিল সেটি। অর্থাৎ ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ফিরহাদ হাকিমের হাত থাকায় এবং প্রভাব প্রতিপত্তি জেরে পুলিশের হাত থেকে বেঁচে যায়। সেই সময় শামসের লোকজনই ওই বেআইনি নির্মাণ তৈরি করছিল বলে অভিযোগ উঠে। ফিরহাদ হাকিম সে সময় বলেছিলেন, কাউন্সিলরের পক্ষে সব গলির সব বিল্ডিংয়ের খোঁজ রাখা সম্ভব নয়।
রাজ্যে পালাবদলের পর এখন এই ইকবালই নাম লিখিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের তালিকায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মডেলে যুক্ত হয়ে প্রতি বৈঠকে হাজির থেকেছেন। সম্প্রতি যোগা দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পা ধরেও প্রণাম করেছিল এই কাউন্সিলর।
গতকাল এই শামসকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শাম্স এবং তাঁর ঘনিষ্ঠেরা অভিযোগকারীর কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করেন। জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্বিঘ্নে ওই এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাঁদের টাকা দিতে হবে। মোট ৭০ লক্ষ টাকা তোলা হয় তাঁর কাছ থেকে। টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন কাউন্সিলর। সেই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।