শিক্ষার উন্নয়নে ‘অপ্রিয়’ সিদ্ধান্ত, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর, বার্তা শিক্ষকদের
এই সময়: কলেজের আসন ভরছে না, ক্লাসে পড়ুয়ারাও থাকছেন না — এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। একই বক্তব্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের। রবিবার অধ্যক্ষ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভায় কলেজ–অধ্যক্ষদের সামনে ছাত্রদের ফেরানো এবং ক্লাসে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ, পরামর্শও দেন তাঁরা।
এ দিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ওই সভায় স্বপন বলেন, ‘আমরা কলেজে ছাত্র পাচ্ছি না। এর মানে এই নয়, যে আমাদের ডেমোগ্রাফিতে কোনও বড় পরিবর্তন হয়েছে। আসলে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ছেলেমেয়েরা বাইরে চলে যাচ্ছে।’ যদিও একদিন আগেই উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, আগের সরকার অপরিকল্পিত ভাবে আসন বাড়িয়েছিল বলেই এত সিট ফাঁকা থেকে যাচ্ছে। সে প্রসঙ্গে না গিয়ে রবিবার স্বপন পুরোপুরি অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তাঁর কথায়, ‘কলকাতায় (এখন) কমবয়সি ছেলেমেয়েরা নেই বললেই চলে। কারণ, এখানে সুযোগ নেই। এই বাস্তবতাকে মানতে হবে। এই বাস্তবতার জন্যই কেউ ভালো জায়গায় পড়তে গেলে আমরা আর্থিক সহায়তার কথা বলেছি। কারণ, ওদের যদি বলি ছেড়ে যেও না, শুনবে কেন!’ এ প্রসঙ্গে তিনি দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে জানােন, এক সময়ে গোটা দেশের ছেলেমেয়েরা পশ্চিমবঙ্গে পড়তে আসত। কিন্তু এখন কেউ আসতে চায় না। কারণ রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে দুর্নীতি। এই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বের করতে সরকারকে বেশ কিছু কঠোর ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
ভিসি আশুতোষও জানান, ভর্তির মরশুমে ওডিশাগামী ধৌলি এক্সপ্রেসে উঠলে দেখা যাবে, বাংলার ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে পড়শি রাজ্যের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য তাঁকে ‘পীড়া দেয়’। ক্লাসে পড়ুয়াদের ফেরানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার উপরে বারবার জোর দেন উপাচার্য। এ জন্য শিক্ষক সমাজকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে বলেও তাঁর মত। আশুতোষের বক্তব্য, ‘একটি ছেলে বা মেয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছনোর জন্য টাকা খরচ করে যাতায়াত করছে। টিফিনের খরচ, হাত খরচও লাগছে। অথচ কলেজে পৌঁছে যদি দেখে, দিনে মাত্র দুটো ক্লাস হচ্ছে, তা হলে পরদিন আর আসবে কেন? পড়ুয়ারা যেন কলেজে এসে বোঝে যে ক্লাস করলে তার পঠনপাঠনে লাভ হচ্ছে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’
এরই সূত্রে তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আরও বেশি করে আত্মিক যোগাযোগ স্থাপনের পরামর্শ দেন শিক্ষকদের। ভিসি বলেন, ‘অনেক সময়ে ক্লাসে না যাওয়ার যুক্তি হিসেবে শিক্ষকরা জানান, তাঁদের সিলেবাস শেষ হয়ে গিয়েছে। সিলেবাস শেষ হলেও ক্লাসে যান। প্রয়োজনে স্টুডেন্টদের সঙ্গে গল্প করুন। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ওরা কী ভাবে কেরিয়ার সাজাতে পারে, তা নিয়ে ওদের গাইড করুন। ক্লাসে পড়ুয়াদের ফেরাতে এটাও বড় ভূমিকা নিতে পারে।’ কিছুটা আক্ষেপের সুরে উপাচার্যের সংযোজন, ‘কলেজে যাতে ভালো করে ক্লাস হয়, সেটা শিক্ষকদেরই নিশ্চিত করতে হবে। আপনারা অনেকে প্রাইভেট টিউশন করেন। সেখানে যে ভাবে যত্ন নিয়ে পড়ান, কলেজেও তেমন ভালো করে পড়ান। তা হলে পড়ুয়ারা ক্লাসে ফিরবে।’
অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি পঙ্কজ রায় অর্থমন্ত্রী ও উপাচার্যের সঙ্গে একমত। তাঁর সংযোজন, ‘যে পড়ুয়ারা সরকারি–বেসরকারি স্কলারশিপ পায়, তার সঙ্গে যাতে উপস্থিতির হারকে যুক্ত করা হয়, আমরা সেটা চাইব। ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকলে কেউ যেন (স্কলারশিপের) সুযোগ–সুবিধে না পায়।’ কিন্তু পড়ুয়ারা গেলেও কি শিক্ষকরা সব সময়ে ক্লাসে থাকবেন? পঙ্কজের বিশ্বাস, ‘স্টুডেন্টরা থাকলে টিচার ক্লাসে যেতে বাধ্য।’