Bankura, GI Tag: হুগলির পর বাঁকুড়া, এবার বড় স্বীকৃতি দশাবতার তাস | Dashavatar Playing Cards of Bishnupur got GI Tag
বাঁকুড়া: শনিবার হুগলি আর রবিবার বাঁকুড়া। সব মিলিয়ে বাংলার মিষ্টির জয়-জয়কার। গতকাল জলভরা সন্দেশ, মনোহরার মতো হুগলি জেলার একাধিক মিষ্টি পেয়েছিল জিআই (GI) ট্যাগ। আর এবার জিআই পেল বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস। স্বীকৃতি মেলায় খুশি তাস শিল্পীরা।
মল্ল রাজাদের আমল থেকেই এই তাস তৈরির শিল্প চলে আসছে বিষ্ণুপুরের বুকে। একসময় এই তাস দিয়ে নিয়মিত তাস খেলা হলেও বর্তমানে তা বিলুপ্তপ্রায়। তবে বিশেষ ঘরানার অঙ্কনরীতি অনুসরণ করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে তৈরি এই তাস শুধু দেশের শিল্প রসিকদের কাছে নয়,বিদেশের শিল্পপ্রেমীদের কাছেও যথেষ্ট আগ্রহের সামগ্রী।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর একসময় ছিল মল্ল রাজাদের রাজধানী। সেই বিষ্ণুপুরে আর পাঁচটা নামী কুটির ও হস্ত শিল্পের মধ্যে অন্যতম হল দশাবতার তাস শিল্প। শহরের শাঁখারিবাজার এলাকায় ফৌজদার পরিবার এই তাস অঙ্কনের সঙ্গে যুক্ত। কথিত আছে মুঘল রাজদরবারে চালু থাকা তাসের আদলে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজারা তাস খেলার প্রচলনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এরপর সেই তাস তৈরির দায়িত্ব পড়ে মল্ল সেনাপতি ফৌজদার পরিবারের উপর।
এই তাসের বৈশিষ্ট্য কী?
সেই সময় বিষ্ণুপুরের রাজারা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী ছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই বিষ্ণুর দশটি অবতার নিয়ে এই তাস অঙ্কনের রীতি চালু হয়। বিষ্ণুর দশটি অবতার, দশ অবতারের দশটি বাহন, দশটি অস্ত্র, দশটি প্রতীক মিলিয়ে মোট ১২০ টি তাস নিয়ে তৈরি হয় একটি সেট।
এক সময় শুধু রাজপ্রাসাদেই নয়, বিষ্ণুপুর শহরের বহু মানুষ এই তাসের খেলা জানতেন। তবে সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে সেই তাস খেলা হারিয়ে যায় বিষ্ণুপুরের বুক থেকে। বর্তমানে শিল্পী শীতল ফৌজদার সহ হাতেগোনা কয়েকজন এই তাসের খেলা জানেন। খেলার চল না থাকলেও রাজ ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই তাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিষ্ণুপুরের মানুষের আবেগ। এবার সেই তাসই জিআই তকমা পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি তাস অঙ্কন শিল্পী থেকে শুরু করে বিষ্ণুপুরের আপামর মানুষ।