মহরমের মিছিলে বিষ ক্যাপসুল খাইয়ে ৩০,০০০কে প্রাণে মারার ছক! পুলিশের জালে ফয়াজ প্রেমজি
মুম্বই: মুম্বই পুলিশ পর্দা ফাঁস করেছে এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের। (Faiyaz Premji)মহরমের পবিত্র মিছিলের সময় হাজার হাজার মানুষকে লক্ষ্য করে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে ফয়াজ প্রেমজি…
মুম্বই: মুম্বই পুলিশ পর্দা ফাঁস করেছে এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের। (Faiyaz Premji)মহরমের পবিত্র মিছিলের সময় হাজার হাজার মানুষকে লক্ষ্য করে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে ফয়াজ প্রেমজি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই ক্যাপসুলগুলোতে জিঙ্ক ফসফাইড মেশানো ছিল, যা অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক।
এগুলো সাধারণ ব্যথার ওষুধ হিসেবে বিতরণ করার পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফয়াজ প্রেমজির কাছ থেকে প্রায় ১৪,৯০০টি এমন বিষাক্ত ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই ক্যাপসুলগুলো মহরমের মিছিলে উপস্থিত ৩০,০০০ পর্যন্ত মানুষকে লক্ষ্য করে বিতরণ করা হতে পারত।
আরও দেখুনঃ রাম মন্দিরের দানবাক্সে তছরুপ! ৮ জন গ্রেফতার হতেই ‘লঙ্কাকাণ্ড’ বলে তোপ বিরোধীদের
যদি পরিকল্পনাটি সফল হতো, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা ছিল।মুম্বই পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে পুরো ষড়যন্ত্রের চক্র এখনও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। পুলিশ আরও সহযোগীদের খুঁজছে।
এই ঘটনা মুম্বইসহ সারা দেশে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মহরমের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এমন ভয়ংকর পরিকল্পনা অনেককে চিন্তিত করে তুলেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এমন একজন ব্যক্তি এত বড় পরিমাণ বিষাক্ত পদার্থ সংগ্রহ করতে পারলেন এবং কারা তাঁর পেছনে ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, জিঙ্ক ফসফাইড একটি মারাত্মক বিষ। এটি খাওয়ার পর তীব্র পেটব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মিছিলে বিতরণ করা হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত। পুলিশ এখন ফয়াজের ফোন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকটিভিটি এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের খতিয়ে দেখছে।
মুম্বই পুলিশ কমিশনার এই ঘটনাকে ‘গুরুতর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মহরমের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এই গ্রেফতারের ঘটনা মহরম উদযাপনকারীদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। অনেক ধর্মীয় নেতা পুলিশের প্রশংসা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সময়মতো পুলিশের হস্তক্ষেপ না হলে বড় বিপদ হতে পারত। একইসঙ্গে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্র কেন বারবার ঘটছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা কারা করছে।