মৃত প্রৌঢ়ের কব্জি উদ্ধার চণ্ডীতলায়, আরামবাগে খুন?
এই সময়, আরামবাগ: আরামবাগের চাঁদুর ফরেস্টে প্রৌঢ়ের ক্ষতবিক্ষত উদ্ধারের ঘটনায় দেহ , বাড়ছে রহস্য। পুলিশি তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। তাতেই এই ঘটনা নয়া মোড় নিয়েছে। চাঁদুর ফরেস্ট থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত মনসারাম বাগের দেহ থেকে ডান হাতের কব্জির অংশ নিখোঁজ হয়ে যায়। কিন্তু সেই হাত আবার পাওয়া গিয়েছে চণ্ডীতলা এলাকা থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, হাতের ওই অংশ ফরেন্সিক তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে আরামবাগের চাঁদুর জঙ্গলে স্থানীয় বাসিন্দা মনসারাম বাগের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর একটি হাতের কব্জি কাটা অবস্থায় ছিল। পুলিশ সেই দেহাংশের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে।
বুধবার বিকেলে পুলিশ-কুকুর এনে তল্লাশি চালানো হয়। তার পরে বুধবার রাতে চণ্ডীতলা এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি থেকে এই কাটা কব্জি উদ্ধার হয়। এতেই রহস্য দানা বেঁধেছে। উদ্ধার হওয়া ওই দেহাংশ আরামবাগের মৃত প্রৌঢ়ের কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওই প্রৌঢ়কে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে বলে এলাকার মানুষের দাবি।
পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনসারাম বাগ মঙ্গলবার বিকেলে জঙ্গলে গোরু চরাতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। মনসারাম চাষবাসের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে রাস্তার ধারে আনাজ বিক্রি করতেন। তাঁর সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। কিন্তু কে বা কারা তাঁকে নৃশংস ভাবে হত্যা করল, তা নিয়ে ধন্দে সবাই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক আঘাত করা হয়েছে। দেহে নৃশংস হামলার স্পষ্ট চিহ্ন মিলেছে। এমনকী, তাঁর হাতের একটি অংশ কেটে নেওয়া হয়। এর পরেই একটি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে আরামবাগ থেকে অনেকটা দূরে চণ্ডীতলা থানা এলাকায়। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার এলাকার বাসিন্দা সুবর্ণ সামন্ত, সঞ্জু চৌধুরী, কার্তিক বাগ-সহ একাধিক গ্রামবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের বক্তব্য, চাঁদুর ফরেস্টে কোনও নিরাপত্তা নেই। নেই কোনও প্রহরী। হিংস্র সাপখোপ আছে। কার্তিক বাগ বলেন, ‘ফরেস্ট রেঞ্জারকে আমরা আবেদন করেছি, যাতে জঙ্গলে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। প্রহরী বসাতে হবে। প্রকাশ্য দুপুরে এই ভাবে একজনকে বাইরে থেকে এসে খুন করে চলে গেল!’ সঞ্জু, সুবর্ণরা জানান, খুনিকে খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি না দিলে, তাঁদের প্রতিবাদ আরও জোরালো হবে।