Sawan 2026: কবে থেকে শুরু হচ্ছে মহাদেবের প্রিয় শ্রাবণ মাস? জেনে নিন পুজোর নির্ঘণ্ট | Shiva Sawan Month 2026: Sawan Start Date, Monday Fasting Dates and Puja Rituals
গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে বর্ষার আগমনী বার্তা আসতেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে বেজে ওঠে শিবের প্রিয় মাসের আগমনী ঘণ্টা। দেবাদিদেব মহাদেবকে (Lord Shiva) উৎসর্গীকৃত শ্রাবণ মাস (Sawan Month 2026) শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। হিন্দু ধর্মে এই গোটা মাসজুড়েই চলে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভোলেবাবার আরাধনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিব মন্দিরগুলিতে এই সময়ে ভক্তদের ঢল নামে। কেউ কেউ দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে গিয়ে মহাদেবের মাথায় গঙ্গাজল ঢালেন, আবার অনেকেই বাড়িতে ভক্তিভরে দেবাদিদেবের বিশেষ পুজো অর্চনা করেন। ২০২৬ সালে এই পবিত্র মাসটি শুরু হচ্ছে আগামী ১৮ জুলাই থেকে, আর তা শেষ হবে ১৮ অগাস্ট।
শ্রাবণের সোমবারের বিশেষ নির্ঘণ্ট
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার ব্রত পালন করলে নাকি মহাদেব প্রসন্ন হন। এবারের শ্রাবণ মাসে ভক্তদের জন্য রয়েছে একটি দারুণ সুখবর, কারণ এবছর গোটা মাসে মোট পাঁচটি সোমবারের সংযোগ তৈরি হয়েছে।
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনগুলি একবার দেখে নেওয়া যাক:
- প্রথম সোমবার: ২০ জুলাই (৩ শ্রাবণ)
- দ্বিতীয় সোমবার: ২৭ জুলাই (১০ শ্রাবণ)
- তৃতীয় সোমবার: ৩ অগাস্ট (১৭ শ্রাবণ)
- চতুর্থ সোমবার: ১০ অগাস্ট (২৪ শ্রাবণ)
- পঞ্চম সোমবার: ১৭ অগাস্ট (৩১ শ্রাবণ)
কেন শ্রাবণ মাস এত গুরুত্বপূর্ণ?
পৌরাণিক ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, এই শ্রাবণ মাসেই সমুদ্র মন্থন ঘটেছিল। সেই মন্থন থেকে উঠে আসা মারাত্মক ‘হলাহল’ বিষ পান করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে রক্ষা করেছিলেন স্বয়ং শিব। বিষের তীব্র জ্বালায় তাঁর কণ্ঠ নীল হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি ‘নীলকণ্ঠ’ নামে পরিচিত হন। মনে করা হয়, সেই সময়ে সৃষ্টির রক্ষাকর্তার শরীরের বিষের জ্বালা শান্ত করতে দেবী পার্বতী তাঁকে স্তনদুগ্ধ পান করিয়েছিলেন। এই বিশেষ ঘটনার জেরেই শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় জল, দুধ বা গঙ্গাজল ঢেলে পুজো করার রীতি চলে আসছে। ভক্তদের বিশ্বাস, সম্পূর্ণ ভক্তিভরে এই মাসে ভোলেবাবাকে ডাকলে সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়।
পুজো ও ব্রত পালনের সঠিক নিয়ম
শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুসারে, শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলোতে উপবাস রেখে পুজো করলে জীবনের সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয়। যারা উপবাস করতে পারেন না, তারা এদিন সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে পারেন। ‘শ্রাবণ’ শব্দটির উৎপত্তি ‘শ্রবণ’ বা শোনার থেকে, তাই এই সময়ে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আলোচনা শোনা অত্যন্ত মঙ্গলদায়ক। প্রতি সোমবার সকালে স্নান সেরে শিবস্তোত্র পাঠ এবং মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করলে মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
মহাদেবকে তুষ্ট করতে ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা বা কলকে ফুল ব্যবহার করা হলেও, তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হন সামান্য বেলপাতাতেই। এছাড়াও, যারা রুদ্রাক্ষ ধারণ বা স্ফটিকের শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাদের জন্য এই মাসটি সবচেয়ে প্রশস্ত সময়। কেবল বিবাহিত মহিলারা স্বামীর মঙ্গল কামনায় নয়, অবিবাহিত নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই সুখ, সমৃদ্ধি এবং মধুর দাম্পত্য জীবনের আশায় এই ব্রত পালন করে থাকেন।