পাসপোর্ট মানেই নাগরিকত্ব নয়! বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণায় বিতর্ক - 24 Ghanta Bangla News
Home

পাসপোর্ট মানেই নাগরিকত্ব নয়! বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণায় বিতর্ক

Spread the love

নয়াদিল্লি: পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় কেবল ভারতীয় নাগরিকদেরই। অথচ সেই পাসপোর্টই কোনও ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য চূড়ান্ত বা অকাট্য নথি নয়। সম্প্রতি ১৪তম ‘পাসপোর্ট…

নয়াদিল্লি: পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় কেবল ভারতীয় নাগরিকদেরই। অথচ সেই পাসপোর্টই কোনও ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য চূড়ান্ত বা অকাট্য নথি নয়। সম্প্রতি ১৪তম ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’ উপলক্ষে বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। আধার বা ভোটার আইডির পর এবার পাসপোর্টও নাগরিকত্বের প্রমাণ না হওয়ায়, ঠিক কোন নথিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে, তা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট বক্তব্য, পাসপোর্ট মূলত একটি ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ বা ভ্রমণের নথি। সরকার নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুবিধার্থেই এটি ইস্যু করে থাকে। ফলে পাসপোর্ট থাকা মানেই তা নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হতে পারে না।

এর মধ্যে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য রয়েছে। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী অ-নাগরিকদের পাসপোর্ট দেওয়া হয় না। তবুও এটি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এছাড়া, পাসপোর্ট হাতে পাওয়া মানেই আপনি তার মালিক নন। পাসপোর্টের পিছনের মলাটেই স্পষ্ট লেখা থাকে, এটি ‘ভারত সরকারের সম্পত্তি’ এবং সরকার চাইলে যে কোনও সময় তা ফেরত নিতে পারে।

আধার বা ভোটার কার্ডও প্রমাণ নয়

পাসপোর্টের মতোই দেশের আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র, আধার এবং ভোটার কার্ডও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, আধার কার্ড কেবলই পরিচয়ের প্রমাণ (Identity document), নাগরিকত্বের নয়। একইভাবে, ভোটার আইডি কার্ডও মূলত পরিচয় এবং ঠিকানার প্রমাণ, যা নাগরিকদের ভোটদানের অধিকার সুনিশ্চিত করে।

নাগরিকত্ব আইন ঠিক কী বলছে?

ভারতের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মাপকাঠি কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর করে-

২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে ১ জুলাই ১৯৮৭: এই সময়ের মধ্যে ভারতে জন্মগ্রহণকারী যে কোনও ব্যক্তি জন্মসূত্রে ভারতীয়।

১ জুলাই ১৯৮৭-এর পর: এই সময়ের পরে জন্ম হলে, ব্যক্তির পিতা বা মাতার মধ্যে অন্তত একজনকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।

৩ ডিসেম্বর ২০০৪-এর পর: এই সময়ের পর জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতা দুজনকেই ভারতীয় হতে হবে, অথবা একজনকে ভারতীয় হতে হবে এবং অন্যজনকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হলে চলবে না।

পাসপোর্ট পরিষেবায় কেন্দ্রের সাফল্য

এই বিতর্কের মাঝেই বিদেশ মন্ত্রক তাদের পাসপোর্ট পরিষেবার সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছে। খুব শীঘ্রই দেশে চিপ-যুক্ত ই-পাসপোর্ট (e-Passports) চালু হতে চলেছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ১.৫ কোটি পাসপোর্ট ও আনুষঙ্গিক পরিষেবা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শুধু পাসপোর্টই দেওয়া হয়েছে ১.৩৯ কোটি।

বর্তমানে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় বাদ দিলে মাত্র ৬ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট ডেলিভারি করা হচ্ছে। পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে নাগরিকদের গড়ে মাত্র ৪৫ মিনিট সময় কাটাতে হয়। কেন্দ্রের দাবি, গত এক দশকে দেশে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৭ থেকে বেড়ে ৫৪৫টি হওয়ার কারণেই এই দ্রুত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *