জল-যন্ত্রণা দূর করার আশ্বাস, শিলিগুড়ির পুর প্রশাসকের চেয়ারে বিমলা
এই সময়, শিলিগুড়ি: বর্ষা সামাল দেওয়াকেই অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখছেন শিলিগুড়ি পুরসভার প্রশাসক উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব আর বিমলা। মঙ্গলবার সকালে তিনি শিলিগুড়ি পুরসভা গিয়ে নিজের দায়িত্ব বুঝে নেন। প্রথম বৈঠকে শহরের জমা জল দ্রুত বের করতে পুর আধিকারিকদের কাছে পরামর্শ চান তিনি।
বিমলা পুরসভার দায়িত্ব নেওয়ার দিনই সকালের ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টিতে শহরের অর্ধেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। শহরে হাকিমপাড়া, হায়দরপাড়া, লেকটাউন, বিধান মাকের্ট, চম্পাসারি, রেগুলেটেড মার্কেট-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির থামার পরে অবশ্য ধীরে ধীরে অধিকাংশ এলাকা থেকে জল সরে যায়। চলতি মাসে এই নিয়ে তৃতীয় বার শিলিগুড়িতে এমন ঘটনা ঘটল। দিন কয়েক আগেই জমা জলে ডুবে দার্জিলিং মোড়ের রাজীব নগরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
বিমলা বলেন, ‘বর্ষা সামাল দেওয়াই আমাদের অগ্রাধিকার। শহরের কোথাও যাতে আবর্জনা না-জমে সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। তার সঙ্গে অন্যান্য কাজকর্মও চলবে।’ এদিন পুর প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির প্রাক্তন কাউন্সিলররা। তাঁরা শহরের বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানানোর পাশাপাশি পুজোর আগে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আর্জি জানান।
পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলেন, ‘আগের পুর বোর্ড শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কোনও কাজ করেনি। বর্ষা থেমে গিয়েছে। ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবই প্রশাসককে বলা হয়েছে। উনি দক্ষ অফিসার। আমাদের অনুমান, তিনি দক্ষতার সঙ্গেই এই পরিস্থিতি সামাল দেবেন।’
শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব আচমকা পদত্যাগ করায় শিলিগুড়ি পুরসভায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পুরসভা চালানোর জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানানো হলেও সোমবার সন্ধ্যায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। এই ব্যাপারে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই এদিন আর বিমলা পুরসভায় যোগ দেন।