Lubumba Veya: ৯০ মিনিট ধরে হাত তুলে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন, কঙ্গোর সুপারফ্যান লুবুম্বা ভেয়াকে চেনেন? | Who is the Congos superfan Lumbumba Veya? Know the unknown stories of him
কলকাতা : খেলার মাঠে সমর্থন একটা বিশাল বড় অংশ। দলের হাসি-কান্নার সঙ্গে সমান গুরুত্ব পায় সমর্থনও। কিন্তু কঙ্গোর সঙ্গে কোনও দলের ম্যাচ থাকলেই চমকে উঠতে হয় বারবার। দর্শকাসনে ওরকম একটা স্ট্যাচু কে রেখেছে? যতবার ক্যামেরা তাঁর দিকে ঘোরানো হয়, ততবার মুগ্ধ হয়ে তাকানো ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। কিন্তু একই সঙ্গে মানতেই হয়, এই অদ্ভুত সমর্থন আসলে দেশের ফুটবলের উন্নতিস্বার্থে করার জন্যই বানানো।
ভদ্রলোকের নাম মিশেল কুকা ওম্বেলাডিঙ্গা। তিনি কঙ্গোর সুপারফ্যান। তাঁর কৃষ্ণাঙ্গ শরীর, নির্মেদ দেহ, কঙ্গোর পতাকার মতো পোশাক, চোখে চশমা নিয়ে ডানহাত অভিবাদনের মতো তুলে ৯০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁকে দেখলে অবাক হতেই হয়। আশ্চর্য তো, লোকটা একবারও নড়ে না কেন? গোটা ম্যাচ এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকার পর একটুও হাত ব্যথা হয় না? কঙ্গোর জাতীয় দলের কাছে তাঁর পরিচিতি ‘লুবুম্বা ভেয়া’ নামে। তাঁর নিজের মতে, এটি আসলে একপ্রকার ‘ইমোশনাল স্ট্যামিনা’ – যা তাঁকে ও তাঁর দলকে মাঠে খেলার মানসিক শক্তি যোগায়।
লুবুম্বা ভেয়া-র অর্থ কী?
এই কথার অর্থ – লুবুম্বা এখনও বেঁচে আছেন। কে লুবুম্বা? স্বাধীন কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী এই প্যাট্রিক লুবুম্বা। ১৯৬০ সালে তিনি দায়িত্বভার নেন ও নিজের মাতৃভূমিকে বাঁচাতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এর ফলে আসলে তিনি নিজেই তাঁর দেশের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কবলে পড়েন ও তাঁকে ১৯৬১ সালে খুন করা হয়। কথিত আছে, তাঁর মৃতদেহকে টুকরো টুকরো করে কেটে সালফিউরিক অ্যাসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষ চলে যান, তাঁর আদর্শ রয়ে যায়। তাই, এখনও গোটা দেশের কাছে লুবুম্বা একজন হিরো।
তবে বিতর্কও কিন্তু কম হয়নি। প্রথমে অনেকেই তাঁর এই সমর্থনকে দেখে হেসেছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে মিশেল মাঠে এলেও তাঁর এই কীর্তি ভাইরাল হয় ২০২৫ সালে। যখন আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত কাপ অফ নেশন্স প্রতিযোগিতায় তাঁর এই কীর্তি ভাইরাল হয়। কঙ্গো বনাম আলজেরিয়া ম্যাচে আলজেরিয়ার এক ফুটবলার এই বিখ্যাত ভঙ্গিকে ব্যঙ্গ করেছিলেন। ঘটনার নিন্দায় ফেটে পড়ে গোটা সমাজমাধ্যম। এমন অবস্থা হয়েছিল, আলজেরিয়ার ফুটবল ফেডারেশন একপ্রকার বাধ্য হয় ক্ষমা চাইতে। এই ঘটনার ফলেই মিশেলের প্রতি বিশ্বজোড়া মানুষের সহানুভূতি বেড়ে যায়। আরও একটা জিনিস শুনলে অবাক হতে হয়। খেলার মাঠে ৯০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার অনুশীলন করতে মিশেল প্রতিদিন প্রায় ৪০ মিনিট প্র্যাকটিস করেন। খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়া, মানসিকভাবে প্রস্তুত করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষকে ভরসা যোগান মিশেল। বোঝান, আর কেউ না থাকুক, আমি তো আছি?