Pune Murder: বিয়ের জন্য ১৭ কোটির প্রাসাদ বুক, দুর্গ থেকে ধাক্কা মেরে খুন করল বাগদত্তা! লোকের চোখ ভিজিয়েছিল তাঁর কুমিরের কান্না… | Booked Rs 17 Crore Wedding Palace, Then Bride to be Pushed Fiancé to Death from Lohagarh Fort: Shocking Pune Murder Mystery Stuns all
কেতন আগরওয়াল ও সিয়া গোয়েল।Image Credit: Instagram
পুণে: বাগদত্তার জন্মদিনের জন্য দুই সপ্তাহ ধরে করেছিলেন প্ল্যানিং। তাঁকে সারপ্রাইজ দিতে, দামি উপহারে কোনও কসুর করেননি। এদিকে, বাগদত্তাও করছিল অন্য প্ল্য়ানিং। নিজের জন্মদিনে হবু স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে দুর্গ থেকে ফেলে দিলেন যুবতী। আর এই কাজে তাঁকে মদত দিয়েছিল প্রেমিক।
পুণের নামকরা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে কেতন আগরওয়াল (২৬)। তার সঙ্গে বাগদান হয় সিয়া গোয়েল নামক এক যুবতীর। চলতি বছরেই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ১৭ কোটি টাকা দিয়ে বিয়ের জন্য রাজস্থানের উদয়পুর প্যালেসও বুক করা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই বদলে গেল সবকিছু।
সিয়ার জন্মদিনে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন দু’জনে মিলে। মহারাষ্ট্রের লোহাগড় দুর্গের উপর থেকে গত ১৮ জুন পড়ে মারা যান বছর ছাব্বিশের কেতন আগরওয়াল। তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে পা পিছলেই দুর্গ থেকে ৪০০ ফুট গভীরে পড়ে যান কেতন। পুলিশও প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করলেও, পরে তদন্তের একটু গভীরে যেতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল।
জানা যায়, পা পিছলে নয়, ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কেতনকে। তাঁর মৃত্যুর পর সিয়া ইন্সটাগ্রামো স্টোরি পোস্ট করে ‘কুমিরের কান্না’ কাঁদে, আবেগঘন পোস্ট করে লেখে যে কেন কেতন তাঁকে তাঁর জন্মদিনের দিনই ছেড়ে চলে গেল? এই পোস্ট দেখে সকলেই সিয়ার জন্য দুঃখ পেয়েছিলেন। তবে পুলিশি তদন্তে যা উঠে এল, তা ভয়ঙ্কর। জানা গেল যে ১৮ জুন নয়, তার চারদিন আগেও কেতনকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল সিয়া।
গত ১৪ জুনও কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়েছিলেন সিয়া। সেখানে গিয়ে কেতনকে ধাক্কা মেরে খাদে ফেলার চেষ্টা করে। কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল বলেন, “গত ১৪ জুন ওঁরা দুর্গে গিয়েছিল। তখন সিয়া কেতনকে ধাক্কা মারে খাদে। তবে কেতন গাছের ডাল ধরে কোনওমতে রক্ষা পায়। নিজের সত্য ফাঁস হয়ে যাবে, এই ভয়ে সিয়া সঙ্গে সঙ্গে সাপ-সাপ করে চিৎকার করতে শুরু করে। কেতনকে বলে যে ওখানে সাপ ছিল, সাপের হাত থেকে বাঁচাতেই তাঁকে ধাক্কা মেরেছিল। সে বুঝতে পারেনি যে কেতন খাদের দিকে পড়ে যাবে। কেতনও ভেবেছিল যে সিয়া হয়তো সত্যি তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছে, তাই সিয়াকে জড়িয়ে ধরে।”
এমনকী, সিয়া ও কেতনের ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাওয়ার কথা ছিল প্রি-ওয়েডিংয়ের জন্য। কিন্তু এয়ারপোর্টে গিয়ে কেতনের আর পাসপোর্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাই তাদের ফেরত চলে আসতে হয়। এর তিন-চারদিন পরই সিয়া কেতনের সঙ্গে ঝগড়া করে এবং দাবি করে যে তাদের লোহাগড় দুর্গে যেতেই হবে। তখনও কেউ জানত না যে এই ভয়ঙ্কর প্ল্যান করে রেখেছে সিয়া।
গত ১৮ জুন যখন সিয়া ও কেতন লোহাগড় দুর্গে যায়, তখন সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল সিয়া-র প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধুরী (২২)। তারা দুজনে মিলে পরিকল্পনা করে কেতনকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেয়। পুলিশ ওই দুর্গের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চেতনকে চিহ্নিত করে। তাঁকে জেরা করতেই সব সত্যি বেরিয়ে আসে।
জেরায় চেতন জানায়, সিয়ার নিজস্ব বেকারি আছে আর তাঁর নিজের ড্রাই ফ্রুটস ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি আছে। কর্মসূত্রেই তাদের আলাপ হয় এবং সেখান থেকে প্রেম। তাদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছিল কেতন, যার সঙ্গে সিয়ার পরিবার বিয়ে ঠিক করেছিল। বিয়ে ভাঙতে না পেরেই সিয়া খুনের পরিকল্পনা করে। সেই অনুযায়ী, লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে সিয়া ও চেতনকে। তাদের সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।