Calcutta Stock Exchange: বাংলায় ভোটে জিতেই ১১৭ বছরের পুরনো স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনায় বিজেপি সরকার | West Bengal Government proposes revival of Calcutta Stock exchange to Boost Investment in Budget - 24 Ghanta Bangla News
Home

Calcutta Stock Exchange: বাংলায় ভোটে জিতেই ১১৭ বছরের পুরনো স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনায় বিজেপি সরকার | West Bengal Government proposes revival of Calcutta Stock exchange to Boost Investment in Budget

Spread the love

পুষ্পেন্দু পারমার (TV9 গুজরাটি ডিজিটালের এডিটর)

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিচিতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে একাধিক বড় পদক্ষেপের কথা ভাবছে। সেই প্রেক্ষিতেই ১১৭ বছরের পুরনো ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)-কে আবার সচল করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। সোমবার বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করতে গিয়ে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করতে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তারপরই CSE নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

১৯০৮ সালের ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা হয় ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ। এক সময় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শেয়ার বাজার ছিল CSE। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠানকে নতুন সরকার শুধু একটি স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং বাংলার অর্থনৈতিক গৌরব ও শিল্পোন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দেখছে।

একসময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ ছিল CSE-

১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ ভারতের প্রাচীনতম স্টক এক্সচেঞ্জগুলির মধ্যে অন্যতম। একসময় মুম্বইয়ের পর এটিকেই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হত। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের শতাধিক সংস্থা এখানে তালিকাভুক্ত ছিল এবং হাজার হাজার বিনিয়োগকারী এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন করতেন।

কিন্তু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, NSE ও BSE-র ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক জটিলতার কারণে ধীরে ধীরে CSE-র গুরুত্ব কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে এর ট্রেডিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে এক্সচেঞ্জটি স্বেচ্ছায় কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করে।

ঐতিহ্য ও বিনিয়োগ, দুই দিকেই নজর বিজেপি সরকারের-

সূত্রের খবর, নতুন সরকারের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গকে যদি আবার বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে শুধু নতুন শিল্প আনলেই হবে না। রাজ্যের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। এই ভাবনারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে CSE-র পুনরুদ্ধার পরিকল্পনাকে।

সরকারি কৌশলবিদদের মতে, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন মিললে আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ট্রেডিং এবং SME প্ল্যাটফর্ম হিসেবে CSE-কে নতুনভাবে গড়ে তোলা যেতে পারে। এর ফলে পূর্ব ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি মূলধন সংগ্রহের একটি নতুন সুযোগ পেতে পারে।

শুধু স্টক এক্সচেঞ্জ নয়, রয়েছে রাজনৈতিক বার্তাও-

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, CSE পুনরুজ্জীবনের বিষয়টির গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রতীকীও। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে পশ্চিমবঙ্গ তার শিল্প ও অর্থনৈতিক পরিচিতি হারিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ১১৭ বছরের পুরনো এই স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টা এমন একটি বার্তা দিতে পারে যে নতুন সরকার রাজ্যকে বিনিয়োগ, শিল্প এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডের পুরনো স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

তবে পথ মোটেও সহজ নয়-

তবে CSE-কে আবার চালু করতে হলে সেবি (SEBI)-র অনুমোদন, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ, নেটওয়ার্থ সংক্রান্ত শর্ত এবং আরও নানা নিয়ন্ত্রক বাধা অতিক্রম করতে হবে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, CSE পুনরায় চালু হলেও NSE ও BSE-র মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে না। তবে পূর্ব ভারতের জন্য একটি বিশেষ আঞ্চলিক পুঁজিবাজার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টক এক্সচেঞ্জের প্রত্যাবর্তন হবে না, বরং পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ঐতিহ্যকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার প্রয়াস হিসেবেও দেখা হবে। এখন প্রশ্ন একটাই, CSE-র গৌরবময় অতীতের কথা স্মরণ করার বাইরে গিয়ে, নতুন বিজেপি সরকার কি সেই ইতিহাসকে ভবিষ্যতের সাফল্যে রূপান্তরিত করতে পারবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *