অভিশাপ কাটিয়ে ৩৬ বছর পর পূর্বপুরুষের ভিটেতে ফিরলেন বৃদ্ধা কাশ্মীরি পণ্ডিত - 24 Ghanta Bangla News
Home

অভিশাপ কাটিয়ে ৩৬ বছর পর পূর্বপুরুষের ভিটেতে ফিরলেন বৃদ্ধা কাশ্মীরি পণ্ডিত

Spread the love

কুলগাম: ৩৬ বছরের নির্বাসনের পর অবশেষে নিজের জন্মভূমিতে ফিরে এসেছেন (kashmiri pandit)এক বৃদ্ধা কাশ্মীরি পণ্ডিত নারী। দানেও গ্রামের পুরনো বাড়ির উঠোনে পা রেখে মাটি ছুঁয়ে…

কুলগাম: ৩৬ বছরের নির্বাসনের পর অবশেষে নিজের জন্মভূমিতে ফিরে এসেছেন (kashmiri pandit)এক বৃদ্ধা কাশ্মীরি পণ্ডিত নারী। দানেও গ্রামের পুরনো বাড়ির উঠোনে পা রেখে মাটি ছুঁয়ে দেখলেন, পুরনো আখরোট গাছটিকে জড়িয়ে ধরলেন আর আবেগের বাঁধ ভেঙে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়লেন।

চোখের জলে ভেসে যাওয়া সেই মুহূর্তটি শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত ফেরা নয়, গোটা কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের দীর্ঘ বেদনা ও বাস্তুহারার প্রতীক হয়ে উঠেছে।১৯৮৯-৯০ সালের সেই ভয়াবহ সময়ে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে লক্ষাধিক পণ্ডিত পরিবারকে জোর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাতারাতি বাড়ি-ঘর, জমি-জমা, মন্দির-সবকিছু ছেড়ে তাঁদের পালিয়ে যেতে হয়েছিল জম্মু, দিল্লি ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আরও দেখুনঃ PM SHRI: কেরলে পিএম শ্রী প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ! জলকামান চালাল পুলিশ

সেই সময়ের অনেক শিশু আজ বয়স্ক হয়ে গেছে। আর যাঁরা তখন যুবক-যুবতী ছিলেন, তাঁরা আজ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এই বৃদ্ধা নারীও তাঁদেরই একজন। তিনি যখন বাড়ি ছেড়েছিলেন, তখন তাঁর স্বপ্ন ছিল ফিরে আসার। ৩৬ বছর পর সেই স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।দানেও গ্রামের সেই পুরনো বাড়িতে পা রেখে তিনি প্রথমে মাটিতে হাত ছুঁয়েছিলেন।

যেন মাটির সঙ্গে কথা বলছিলেন। তারপর উঠোনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুরনো আখরোট গাছটিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। গাছটি তাঁর শৈশবের সাক্ষী। সেই গাছের ছায়ায় বসে তিনি একসময় পড়াশোনা করতেন, খেলতেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেন। আজ সেই গাছটিই তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্মৃতি। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “এই মাটি আমার।

এই বাতাস আমার। কিন্তু যাঁরা ছিলেন, তাঁরা আর নেই।”কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর ১৯৯০ সালের নৃশংসতা আজও ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। লক্ষাধিক মানুষকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। অনেকে খুন হয়েছিলেন, মন্দির ভাঙা হয়েছিল, বাড়িঘর দখল হয়ে গিয়েছিল। যাঁরা বেঁচে ফিরেছিলেন, তাঁদের জীবন হয়ে উঠেছিল শরণার্থীর।

দশকের পর দশক তাঁরা ক্যাম্পে, ভাড়া বাড়িতে, অস্থায়ী আশ্রয়ে কাটিয়েছেন। অনেক পরিবারের সন্তানরা কাশ্মীরের মাটি চোখেও দেখেনি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পণ্ডিতদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। কিছু পরিবার ফিরেও এসেছেন। কিন্তু ফিরে আসা মানে শুধু বাড়িতে ফেরা নয়। হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়স্বজন, ভাঙা স্মৃতি, লুট হয়ে যাওয়া সম্পত্তি এসবের মধ্যে নতুন করে জীবন শুরু করা সহজ নয়। এই বৃদ্ধা নারীর চোখের জল সেই কথাই বলে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *