আরও বিপাকে অভিষেকের পিএ সুমিত রায়, এ বার ডেবরার কেসে জুড়ল নাম
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এ বার আরও বিপাকে। ডেবরা থানার একটি কেসে যুক্ত হলো সুমিতের নাম। গত ১৬ই জুন ডেবরা থানায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার নামে একটি কেস দায়ের হয়েছিল। সেই কেসে তদন্ত করতে গিয়ে সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। সেই FIR-এ সুমিতের নাম যুক্ত করে তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জমি জালিয়াতি, মাটি চুরির অভিযোগের পরে এ বার নতুন অভিযোগ। আগেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সিআইডি লুক আউট নোটিসও জারি করে।
মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানায়। গত ১৬ জুন ডেবরার ত্রিলোচনপুরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ রায় সেই অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, এক সময়ে তিনি তৃণমূলেরই কর্মী ছিলেন। সেই সময়ে সুজয় হাজরার সঙ্গে পরিচয়।
অভিযোগপত্রে প্রসেনজিৎ লেখেন, ২০২৩ সালে সুজয় হাজরা তাঁকে জানান, ১২টি সরকারি পদে চাকরি রয়েছে, ১২ জনকে তা দিতে পারবেন। এর বদলে ১২ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তিনি ধারদেনা করে টাকার ব্যবস্থা করেন। ডেবরারই একটি হোটেলে সুজয়ের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে সুজয় পরিচয় করিয়ে দেন হাওড়ার নলপুরের এক বাসিন্দার সঙ্গে। তিনি নিজেকে নবান্নের কর্মী বলে পরিচয় দেন।
প্রসেনজিতের অভিযোগ, সে দিন সুজয় নিজের কাছে ২ লক্ষ টাকা রেখে বাকি ১০ লক্ষ টাকা ওই কর্মীকে দিয়ে দেন। তাঁরা জানান, চাকরির নিয়োগপত্র এলে আরও ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এমনকী আশিক প্রসেনজিৎ-সহ ১২ জনকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিকাশ ভবন, খাদ্য ভবন ঘুরিয়েও দেখান বলে অভিযোগপত্রে জানান তিনি। মেডিক্যাল টেস্টও হয়।
প্রসেনজিতের দাবি, এর পরে আশিক বলেন, ‘অভিষেকদার পিএ সুমিত রায়কে টাকা দিতে হবে। না হলে চাকরি হবে না।’ যদিও চাকরি তো হয়নি, টাকাও ফেরত পাননি বলে জানান পুলিশকে। সেই মামলাতেই এ বার সুমিত রায়কে যুক্ত করা হলো।