সার্ক না বিমসটেক: জিয়াউর রহমান থেকে দীনেশ ত্রিবেদী
সাধারণত দু’দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে যৌথ শক্তি বা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। তবে বাস্তব হলো, ভারত সরকারের যে কোনও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষ খুব সহজে গ্রহণ করতে চান না। কারণ শেখ হাসিনার বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে একতরফা ভাবে সহযোগিতা করেছিল প্রতিবেশী দেশটি, যার দাগ ও ক্ষত বাংলাদেশ বয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। আওয়ামি লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এখনও ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। তাই দীনেশ ত্রিবেদীর ‘আঞ্চলিক উন্নয়নের কথা’ সত্যিকার অর্থে ভারতের আন্তরিক ইচ্ছা হয়ে থাকলে, অকার্যকর হয়ে পড়া সার্ক সংগঠনটিকে কার্যকর করে তুলতে ভারতের এগিয়ে আসা উচিত।
২০১৬ সালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য ১৯-তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পর থেকে সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সংগঠনকে সরিয়ে রেখে ভারত বিমসটেক-কে বিকল্প হিসেবে বেছে নিতে চায়।
কিন্তু স্বাভাবিক কারণেই সার্কের বিকল্প বিমসটেক হতে পারে না। কারণ, সার্ক দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মৌলিক সংগঠন, আর বিমসটেক সার্কের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মাত্র। মৌলিক আর বিকল্পের মধ্যে অনেক তফাৎ। এই বিষয়টা পর্যবেক্ষণে রেখে সার্ক এবং বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর বৈশিষ্ট্য নিবিড় ভাবে পর্যালোচনা ও আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।