‘আব তেরা ক্যায়া হোগা?’ প্রশ্নে নরেনের অনুগামীরা
সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর
‘আব তেরা ক্যায়া হোগা কালিয়া।’
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ‘শোলে’–তে খলনায়ক গব্বর সিংয়ের সেই সংলাপ আজও মানুষের স্মৃতিতে গেঁথে রয়েছে। ঘটনা হলো, রাজ্যে পালাবদলের পরে সেই সংলাপও যে আবার ফিরবে, তা সম্ভবত কেউ কল্পনা করতে পারেননি। কিন্তু দুর্গাপুরের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কান পাতলে আরও জোরালো ভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সেই সংলাপ।
শনিবার কলকাতায় গিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে লিখিত ভাবে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার চিঠি দিয়ে এসেছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সেখানেই শেষ নয়। এই মুহূর্তে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’ শিবিরের মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন নরেন্দ্রনাথ। আর তার পর থেকেই এই শিল্পনগরীতে নরেন–অনুগামীদের লক্ষ্য করে বিজেপির নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের একাংশও ছুড়ে দিচ্ছেন প্রশ্ন, এ বার তাঁদের ভবিষ্যৎ কী!
শুক্রবার ইস্তফা দেওয়ার পরে কলকাতায় ঋতব্রতকে সঙ্গে নিয়ে নরেন্দ্রনাথের সাংবাদিক বৈঠক করার পরেই দুর্গাপুর–সহ পুরো পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল কর্মীরা কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছেন। যাঁরা এত দিন ধরে দলটা মনপ্রাণ দিয়ে করেছেন, তাঁরা এখন বুঝতেই পারছেন না, এর পরে তাঁদের করণীয়! তাঁদের নেতা কি আদৌ আর মূল তৃণমূলের সঙ্গে থাকবেন নাকি তাঁরাও নেতাকে অনুসরণ করে বিদ্রোহী শিবিরের দিকে পা বাড়াবেন।
দুর্গাপুর পুরসভার এক প্রাক্তন কাউন্সিলার শনিবার এই বিষয়ে বলছিলেন, ‘পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে অপেক্ষা করে জল মাপা ছাড়া কোনও উপায় নেই।’ দুর্গাপুরের প্রাক্তন কাউন্সিলার রমাপ্রসাদ হালদারকে কয়েক দিন আগে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন রামপ্রসাদ। তিনি বললেন, ‘আর রাজনীতি নয়। নিজস্ব স্বার্থের কথা চিন্তা না–করে মানুষকে পরিষেবা দিয়েছি। তার পরিণতি যদি জেল হয়, তা হলে কেন রাজনীতি করব? এখন নিজের পরিবার আর কাজকর্ম নিয়েই থাকব।’
নরেন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী পঙ্কজ রায় সরকারের কথায়, ‘কী করব, এখনও বুঝতে পারছি না। জেলা অফিসে যাচ্ছি না।’ সিংহভাগ তৃণমূল কর্মী এলাকা ছাড়া। যাঁরা এলাকায় রয়েছেন, তাঁরাও কার্যত গা ঢাকা দিয়ে আছেন। রাস্তায় বের হতে পারছেন না। তার পরে শুক্রবার নরেন্দ্রনাথের ইস্তফা দেওয়ার কথা জানাজানি হতেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি কর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় দেখলেই ‘চোর’ বলে চিৎকার করছে। কেউ আবার তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ছেন। অছত এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলের কোনও নেতা তাঁদের পাশে নেই।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের মন্তব্য, ‘তৃণমূলের কিছু কর্মী এত দিন ধরে সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের উপরে যে ভাবে অত্যাচার করেছেন, তাতে তো এ বার ওঁদের জেলে যেতে হবেই। এখন ওঁদের কোনও রাজনৈতিক অভিভাবক নেই। সত্যিই কী হবে, তা ভাবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে।’