Bacchar Biriyani: উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙেছে হাবড়ার ‘বাচ্চার বিরিয়ানি’-র দোকান, কী বলছেন ২৪-এর যুবক?
সৌমেন রায়চৌধুরী
ছোটখাটো চেহারা। মুখে সবসময় হাসি লেগেই রয়েছে। বিরিয়ানির জগতে ‘বিপ্লব’ করেছিলেন তিনি। মাত্র ৬৫ টাকায় একপ্লেট। দামে কম মানে ভালো। কিন্তু এখন সব শেষ। হাবরা স্টেশনের বিখ্যাত ‘বাচ্চার বিরিয়ানি’ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত ১৬ জুন বুলডোজ়ার চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় প্ল্যাটফর্মে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা দোকান, স্টল। ভাঙা পড়েছিল বাচ্চার বিরিয়ানির দোকানও। এখন কী ভাবে চলছে তাঁর? দোকানে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদের কী হলো?
তাঁর আসল নাম দেবাশিস বণিক। তা অবশ্য আজ আর কেউ মনে রাখেনি। বিরিয়ানির সুবাস তাঁকে নতুন পরিচয় দিয়েছে। ২৪ বছরের ছেলেটাই এখন ফুড ব্র্যান্ড। তবে তা একদিনে গড়ে ওঠেনি। হাবড়া প্ল্যাটফর্মের একফালি দোকানটা ছিল বাচ্চার বাবার। চা বিক্রি করতেন। তাঁর মৃত্যুর পরে ব্যবসা শুরু করেন বাচ্চা। প্রথমে চায়ের দোকানই চালাতেন। লকডাউনে সব বন্ধ হয়ে যায়। তখন পেট চালাতে চালু করেন মুরগির ব্যবসা। সেই থেকে বিরিয়ানির দিকে যাত্রা শুরু হয়।
মুরগির ব্যবসা করতে গিয়েই মাথায় আসে, সাধারণ মানুষকে কম দামে বিরিয়ানি দিলে কেমন হয়? স্টেশনে বাবার দোকানে মায়ের হাতের রান্না করা বিরিয়ানি নিয়ে শুরু হলো ব্যবসা। তার পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দিনে ১৫ থেকে ২০ হাঁড়ি চোখের নিমেষে বিক্রি হয়ে যেত। গত ১৬ জুন হাবড়া স্টেশন চত্বরে নামল বুলডোজ়ার। শুরু হলো উচ্ছেদ অভিযান। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ দোকান, স্টল। বাচ্চার বিরিয়ানির দোকানও বাদ গেল না।
দোকানের সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে দেবাশিস ওরফে বাচ্চা বললেন, ‘আমি আবার ঘুরে দাঁড়াব।’ কিন্তু তাঁর দোকানে যে পাঁচ জন কাজ করতেন, তাঁদের কী ভাবে সংসার চলবে, সেটাই এখন তাঁর মাথাব্যথার কারণ। বাচ্চার কথায়, ‘শুধু পাঁচ জন কাজ হারায়নি, তাঁদের পরিবারগুলিও পথে বসেছে।’ তাঁদের কথা ভেবেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করতে চান বাচ্চা ওরফে দেবাশিস।
বাচ্চার অবশ্য পথে বসার মতো অবস্থা হয়নি। হাবরার জয়গাছি ফায়ার ব্রিগেডের ঠিক উল্টো দিকে বাচ্চার একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁ রয়েছে। বিক্রিবাটাও ভালোই। এখন সেখান থেকেই বিরিয়ানি বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। হাবড়া স্টেশনে উচ্ছেদের আগে ১৫ দিনের নোটিস দিয়েছিল রেল। তার পরেই দোকানের সমস্ত সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। শুধু দোকানের কাঠামোটাই ভেঙেছে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রেলের উচ্ছেদ অভিযানের উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
হাবড়া স্টেশনের আশেপাশে দোকান করার জন্য জায়গা খুঁজছেন বাচ্চা। বারাসাতেও একটি বিরিয়ানি দোকান চালু করার ইচ্ছা আছে তাঁর। কিন্তু জায়গা পছন্দ হচ্ছে না। যাঁরা কাজ হারিয়েছেন, তাঁদের আপাতত নিজের রেস্তোরাঁয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বসাতে চান বাচ্চা। ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে বাচ্চা বলছিলেন, ‘দোকান ভেঙেছে, স্বপ্ন নয়।’