যোগ দিবসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়, স্পষ্ট জানাল কলকাতা হাইকোর্ট
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কি না, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তি করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)…
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কি না, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তি করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলার শুনানির পর স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কোনওভাবেই বাধ্যতামূলক নয়। রাজ্যের তরফে আদালতে জমা দেওয়া লিখিত রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যোগ দিবস উপলক্ষে যে বিজ্ঞপ্তি (Calcutta High Court) জারি করা হয়েছে, তা মূলত একটি সাধারণ নির্দেশিকা বা অনুরোধমাত্র। সেখানে কোথাও কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হলেও তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী। কেউ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।
রাজ্যের এই অবস্থান লিখিতভাবে আদালতের সামনে পেশ করা হয়। সেই রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিকে বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করার কোনও সুযোগ নেই। আদালতও রাজ্যের এই বক্তব্যকে নথিভুক্ত করে জানিয়ে দেয়, যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। ফলে সকল কর্মীকে উপস্থিত থাকতেই হবে এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা পর্যবেক্ষণে বলেন, যখন রাজ্য নিজেই জানাচ্ছে যে এটি একটি সাধারণ বিজ্ঞপ্তি এবং বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়, তখন সেই বিষয়ে আর কোনও বিভ্রান্তির অবকাশ থাকে না। আদালত মনে করে, কর্মীদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত এবং কোনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব রয়েছে। এই পর্যবেক্ষণের পরই মামলার নিষ্পত্তি করে দেন বিচারপতি।
আদালতের (Calcutta High Court) এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবী মহল। তাঁদের মতে, সরকারি কর্মীদের উপর কোনও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের নীতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই রায়ে। একইসঙ্গে আদালত পরিষ্কার করে দিয়েছে যে প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তি এবং বাধ্যতামূলক সরকারি নির্দেশ এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।