বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পর খুদে ভক্তের স্কুলে মেসি, নিলেন সেলিব্রেশনের নতুন পাঠ
আর্জেন্তিনার (Argentina) অধিনায়ক লিওনেল মেসি (Lionel Messi) ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আলজেরিয়ার (Algeria) বিরুদ্ধে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে তিনি যেমন নতুন ইতিহাস গড়েছেন, তেমনই মাঠের বাইরের একটি ছোট্ট ঘটনাও ফুটবলপ্রেমীদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ম্যাচের পর সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করছেন মেসি, ছবি তুলছেন এবং তাঁদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন। সেই সময় এক খুদে সমর্থক মেসিকে একটি বিশেষ নাচের ভঙ্গি দেখায়। মেসিও হাসিমুখে সেটি মন দিয়ে দেখেন। অনেকেরই ধারণা, শিশুটি যেন মেসিকে নতুন ধরনের গোল উদযাপন শেখানোর চেষ্টা করছিল। এর পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে, পরের ম্যাচে গোলের পর কি সেই নতুন উদযাপনই করতে দেখা যাবে আর্জেন্তিনার অধিনায়ককে?
La reacción de Messi cuando un niño le pidió que hiciera su celebración en su próximo gol pic.twitter.com/nugbtHVeft
— ceciarmy (@ceciarmy) June 18, 2026
No way this kid wanted Messi to do that celebration pic.twitter.com/48FxwbU12g
— 23 (@20plusthree) June 18, 2026
A young Argentine fan met with Lionel Messi and begged him to do a special jubilation when he scored his next goal. pic.twitter.com/daXly7wV9g
— Ilerimi (@Bestileri) June 18, 2026
খুদে সমর্থকের শেখানো উদযাপন কি দেখা যাবে?
হ্যাটট্রিকের জন্য যেমন প্রশংসা পাচ্ছেন মেসি, তেমনই এক খুদে সমর্থকের সঙ্গে তাঁর মিষ্টি মুহূর্তও এখন নেটপাড়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়। ভিডিয়োতে দেখা যায়, ছোট্ট সেই সমর্থক খুব উৎসাহের সঙ্গে একটি নাচের ভঙ্গি দেখাচ্ছে। মেসিও মন দিয়ে সেটি দেখছেন এবং হেসে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এর পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে নতুন কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল করে যদি নতুন ইতিহাস গড়েন মেসি, তা হলে কি সেই খুদে সমর্থকের শেখানো নাচের ভঙ্গিতেই গোল উদযাপন করবেন? উত্তর এখনই জানা না গেলেও, আর্জেন্তিনা সমর্থকেরা অধীর আগ্রহে সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
হ্যাটট্রিকে ইতিহাস গড়লেন মেসি
বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান দারুণ ভাবে শুরু করেছে আর্জেন্তিনা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ে দলের তিনটি গোলই করেন মেসি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই তাঁর প্রথম হ্যাটট্রিক। ৩৮ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়ে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার হয়ে গিয়েছেন। ম্যাচের প্রথম গোলটি করার পর মেসিকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখায়। উদযাপনের সময় নিজের জার্সি দিয়ে চোখের জল মুছতেও দেখা যায় তাঁকে। ম্যাচ শেষে সেই প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘প্রথম গোলের পর আমার চোখে জল চলে এসেছিল। গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। বিষয়টা ফুটবলের জন্য নয়, ব্যক্তিগত কিছু কারণে। সেই সময় আমার সতীর্থরা, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে থাকা সবাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
এই তিন গোলের ফলে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। এর ফলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি একক ভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন।
মেসিকে নিয়ে ভাষা হারালেন স্কালোনি
ম্যাচের পর মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni)। তাঁর মতে, মেসির মতো ফুটবলারের পারফরম্যান্সকে ভাষায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। স্কালোনি বলেন, ‘লিওকে নিয়ে আর কী বলব! সত্যি বলতে আমার কাছে কোনও ভাষা নেই। ও অবিশ্বাস্য। বছরের পর বছর ধরে ও যা করে চলেছে, তা সত্যিই অসাধারণ।’
বিশ্বকাপে অভিষেকের ঠিক ২০ বছর পর এই হ্যাটট্রিক করলেন মেসি। একই সঙ্গে এটি তাঁর পেশাদার কেরিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিক। নিজের দীর্ঘ ফুটবল জীবনের এই বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমার ফুটবল জীবনে অনেক কিছু দেখেছি, অনেক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এখন যা উপভোগ করছি, সেটি যেন সব কিছুর সেরা পুরস্কার।’