ফাঁকা ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার জনপ্রিয় সিরিয়ালের অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ, চাঞ্চল্য টেলিপাড়ায় | Kumkum Bhagya, Chhava actor Sanchita Ugale dies
ভরদুপুরে বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হলো টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় এক অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ। গত ১৪ জুন মুম্বাইয়ের নিজস্ব আবাসন থেকে ৩০ বছর বয়সী অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা টেলি-দুনিয়ায়। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার বিশদ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বিনোদন জগতে বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের অভিনয় দক্ষতার জোরে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করছিলেন সঞ্চিতা। টেলিভিশন এবং সিনেমা— উভয় মাধ্যমেই সমান তালে কাজ করছিলেন তিনি। তবে তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘোরে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কুমকুম ভাগ্য’ (Kumkum Bhagya)-র হাত ধরে। এই মেগা সিরিয়ালে ‘দিয়া ট্যান্ডন’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল। আগের একাধিক সাক্ষাৎকারে সঞ্চিতা নিজেই জানিয়েছিলেন, এই ধারাবাহিকটি তাঁর কেরিয়ারের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ ছিল, যা তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেওয়ার পাশাপাশি একজন শিল্পী হিসেবে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।
‘কুমকুম ভাগ্য’ ছাড়াও একাধিক সফল প্রজেক্টের অংশ ছিলেন সঞ্চিতা উগালে। ছোট পর্দায় সনি টিভির জনপ্রিয় শো ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ (Wagle Ki Duniya)-তে ‘রুচিতা জেইটলি’র চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর দঙ্গল টিভির ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ধারাবাহিকে অভিনেতা সৌরভ বেদীর বিপরীতে মুখ্য চরিত্র ‘সুকুন’-এর ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। এই লিড রোলটি তাঁকে আরও বৃহত্তর দর্শককুলের কাছে পৌঁছে দেয়। শুধু ছোট পর্দাই নয়, বলিউডের বড় পর্দাতেও কাজ শুরু করেছিলেন সঞ্চিতা। ভিকি কৌশল অভিনীত ঐতিহাসিক ড্রামা ফিল্ম ‘ছাবা’ (Chhaava)-তে ‘তারাবাই’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
এদিকে সঞ্চিতার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, মৃত্যুর ঠিক কিছু সময় আগেও তিনি একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাঁকে একটি গানের তালে হাসিমুখে নাচতে দেখা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই হাসিমুখের আড়ালে থাকা মানুষটি কীভাবে এমন এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। ঘটনার নেপথ্যে মানসিক অবসাদ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।