TMC Rebel MP: অফিস হাওড়ার বাঁকড়ায়, দল তৈরি হয়ে গিয়েছিল ৪ বছর আগেই! এবার সেই দলেই? দিল্লিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মাস্টারস্ট্রোক | Rebel TMC Bloc May Rebrand as Nationalist Citizens Party of India, NDA Entry on Cards
লোকসভার স্পিকারের বাসভবনে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরাImage Credit: TV9 Bangla
নয়া দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস নয়, ‘Nationalist Citizens Party of India’ নামে পরিচিত হতে পারে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের নতুন ব্লক। এরপরই NDA-তে সামিল হতে পারেন তাঁরা। নিয়ম অনুযায়ী একই রাজনৈতিক দলের নামে দুটি নতুন ব্লক গঠন করা যায় না। তাই নির্বাচন কমিশনে আবেদনকারী একটি অন্য রাজনৈতিক দলের নামে পরিচিত হতে পারে বিক্ষুব্ধ ব্লক। অসম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে এই পার্টির ভিত্তি আছে বলে দাবি করা হতে পারে। দিল্লিতে এবার মাস্টারস্ট্রোক বিদ্রোহী সাংসদদের। চার বছরের পুরনো দলের সঙ্গে মিশেই NDA তে সামিল হওয়ার প্রয়াস।
ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে রয়েছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। একটি ছবি সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নিশিকান্ত দুবের সঙ্গে ১৭ জন সাংসদকে দেখা যাচ্ছে।
১. দলের নাম
– আবেদনকারী দলের নাম: ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া
২. যে সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছিল:
মিলেনিয়াম পোস্ট – ইংরেজি বিজ্ঞপ্তি
– সমিজ্ঞা – হিন্দি বিজ্ঞপ্তি
– প্রকাশের তারিখ: উভয় ক্ষেত্রে ১৩-১০-২০২২
৩. বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য
এই বিজ্ঞপ্তিটি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে জারি করা হয়েছে। যখন একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয় এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন করার প্রয়োজন হয়, তখন দলটিকে অবশ্যই জনসাধারণকে জানাতে হয়।
ইংরেজি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে:
“সাধারণ জনগণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দলের কার্যালয় বিবরা, হোল্ডিং নং-৪৭৯, গ্রাম নটপাড়া, পোস্ট অফিস- বাঁকড়া, থানা- বাঁকড়া, জেলা- হাওড়া, পিন-৭১১৪০৩-এ অবস্থিত… ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’-র নিবন্ধন নিয়ে যদি কারও কোনো আপত্তি থাকে… তবে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন সদন, অশোকা রোড, নিউ দিল্লি – ১১০০০১-এ আপত্তি প্রেরণ করুন।”
৪. দলের ঠিকানা
বিবরা, জোত নং-৪৭৯, গ্রাম নটপাড়া, ডাকঘর- বাঁকড়া, থানা- বাঁকড়া, জেলা- হাওড়া, পিন-৭১১৪০৩
৫. আপত্তি দাখিলের শেষ তারিখ
আপত্তি দাখিলের শেষ তারিখ (যদি থাকে) ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর। যদি বিজ্ঞপ্তিটি ১৩ অক্টোবর, ২০২২ তারিখে প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে যে কেউ ৩০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি দাখিল করতে পারতেন।
এদিনই বিদ্রোহীরা স্পিকারের বাসভবনে পৌঁছানোর আগে মমতাপন্থী সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ একটি চিঠি স্পিকারকে দিয়ে আসেন। সেটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে লেখা। তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি একক ও অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল। লোকসভায় দলের সংসদীয় শাখা রাজনৈতিক দলেরই অংশ। আইনের দৃষ্টিতে একটিই তৃণমূল কংগ্রেস, একটিই দলনেতা এবং একটিই হুইপ রয়েছে, যাঁদের ক্ষমতা আসে দলের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে। কোনও সাংসদ বা সাংসদদের একটি অংশ নিজেদের ইচ্ছামতো আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে স্বীকৃতি দাবি করতে পারেন না।
চিঠিতে অভিষেক সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারির মামলার রায়টি উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এই রায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। অভিষেক সংবিধানের ৯১তম সংশোধনের পর দশ নম্বর শিডিউলের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করেছেন, যেটি বাতিল হয়েছে। ফলে দল ভেঙে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করার আইনি সুযোগ নেই। এই বিষয়টি স্পিকারকে স্মরণ করিয়ে অভিষেক আবেদন জানান, সংবিধানের দশ নম্বর শিডিউল অনুযায়ী, বৈধভাবে পুনর্গঠন বা পুনর্বিন্যাসের একমাত্র পথ হল মার্জার। এর জন্য শর্ত রয়েছে। আইনসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সেই সংযুক্তির পক্ষে থাকতে হবে। এরই মধ্যে নয়া ব্লকের নয়া পদক্ষেপের সম্ভাবনার খবর প্রকাশ্যে।