ফিরছে সৌজন্য, গৌতমের সংবর্ধনা শঙ্করকে
এই সময়, শিলিগুড়ি: মুখ দেখাদেখিই বন্ধ ছিল কার্যত। ছিল না বোঝাপড়া। ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে পরিবেশ। ফিরছে সৌজন্য।
তৃণমূলের আমলে রাজ্য সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা যেত না বিজেপি নেতাদের। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুষ্ঠানে গরহাজির থাকতেন জোড়াফুলের নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই পরম্পরা বদলে দিয়েছেন। তাঁর প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত বিধায়কদের। গত কয়েক সপ্তাহের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একই মঞ্চে দেখা গেল রাজ্যের মন্ত্রী ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং শহরের মেয়র গৌতম দেবকে।
শনিবার দীনবন্ধু মঞ্চে শিলিগুড়ির পুরসভা কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দেয়। এখানে আমন্ত্রিত ছিলেন শঙ্কর। তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান মেয়র। পালা করে দু’জনের নাম ডাকা হয় মাইকে। দু’জনেই সংবর্ধনা জানান ছাত্রছাত্রীদের। অথচ ৪ মে–র আগে ছবিটা ছিল আলাদা। শঙ্কর অভিযোগ করতেন, তাঁকে সরকারি অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না। মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইলেও পাওয়া যায় না। গৌতম তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আই হেট িদস বয়।’
গত এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে দু’জনে মুখোমুখি হয়েছিলেন। এতে বাগ্যুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছিল। এই ভোটে গৌতম হেরেছেন, তাঁর দল ক্ষমতা হারিয়েছে। তার পর থেকেই বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। নয়া সরকার রাজনীতিতে সৌজন্য ফেরাতে চাইছে। সেই ভাবনাকে তুলে ধরে শঙ্কর বলেন, ‘এখানে কোনও ব্যক্তিগত বিষয় নেই। আমি আমন্ত্রিত অতিথি ছিলাম। যিনি মেয়র, তিনি সম্মান জানিয়েছেন। ভোটের আগে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। এখন আর এ সব কথা বলার কোনও মানে হয় না। তবে আমি বরাবরই সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কোনও দিন কাউকে অসম্মান করিনি। ভবিষ্যতেও কাউকে সম্মান দেখাতে কার্পণ্য থাকবে না।’ শঙ্কর মন্ত্রী বলে পুরসভার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন, এটা স্বীকার করে নেন গৌতম। বলেন, ‘এখন আর পুরোনো কথা বলতে চাই না। সমস্ত কিছুই পলিসির উপরে নির্ভর করে। আর এখন তো উনি মন্ত্রী। মন্ত্রীকে তো ডাকতেই হবে।’