আগামী ২ বছরেই উত্তর পূর্বের ২ রাজ্য বাদে তুলে নেওয়া হবে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা! ঘোষণা শাহের - 24 Ghanta Bangla News
Home

আগামী ২ বছরেই উত্তর পূর্বের ২ রাজ্য বাদে তুলে নেওয়া হবে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা! ঘোষণা শাহের

Spread the love

afspa-withdrawal-northeast-india-amit-shah-big-announcement

নয়াদিল্লি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন (AFSPA withdrawal)। আগামী এক বছরের মধ্যেই সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা AFSPA (Armed Forces Special Powers Act) কার্যত তুলে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র একটি বা দুটি রাজ্য বাদ দিয়ে বাকি পুরো উত্তর-পূর্ব অঞ্চলকে AFSPA-মুক্ত করা যেতে পারে। এই মন্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত এই আইন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন।

অমিত শাহ বলেন, গত এক দশকে উত্তর-পূর্ব ভারতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ফলে সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেই কারণেই AFSPA-এর আওতা ধাপে ধাপে সংকুচিত করা সম্ভব হয়েছে।

আরও দেখুনঃআগামী ১৪তেই শাহের হাতে আমুলের ৭০০ কোটির প্রকল্পের শিলান্যাস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকা ইতিমধ্যেই AFSPA-এর আওতার বাইরে চলে এসেছে। একসময় যে অঞ্চলগুলি নিরাপত্তার কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হতো, সেখানেও এখন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যেমন স্বাভাবিক হয়েছে, তেমনি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের পথও আরও সুগম হয়েছে।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে উগ্রপন্থী হামলা, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একাধিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করেছে।

AFSPA প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা থেকে ২০১৫ সালে সম্পূর্ণভাবে এই আইন তুলে নেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালে মেঘালয়ও AFSPA-মুক্ত হয়। বর্তমানে অসম, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকেও এই আইনের প্রয়োগ সীমিত করা হয়েছে। যদিও কিছু সংবেদনশীল এলাকায় এখনও আইনটি বহাল রয়েছে, তবে সেই পরিধিও আগের তুলনায় অনেক কম।

AFSPA দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়, যার মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার, তল্লাশি এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের অধিকার অন্তর্ভুক্ত। সমর্থকদের মতে, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা মোকাবিলায় এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই আইনের অপব্যবহারের অভিযোগও বহুবার উঠেছে। তাই নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আইনটি প্রত্যাহারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো ছিল।

অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই দাবিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের লক্ষ্য হলো উত্তর-পূর্ব ভারতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যেখানে AFSPA-এর মতো বিশেষ আইনের আর প্রয়োজন থাকবে না। আগামী এক বছরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আরও বড় অংশ থেকে এই আইন প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *