‘দিদি যতদিন বেঁচে আছেন.....!’ শুভেন্দুর বৈঠক শেষে কী বার্তা দিলেন দেব? - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘দিদি যতদিন বেঁচে আছেন…..!’ শুভেন্দুর বৈঠক শেষে কী বার্তা দিলেন দেব?

Spread the love

মেদিনীপুর: লোকসভা ও বিধানসভায় তৃণমূলের নজিরবিহীন ভাঙন এবং রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে মঙ্গলবার তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল কোলাঘাটে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা তিন জেলার মেগা প্রশাসনিক বৈঠকে আচমকাই …

মেদিনীপুর: লোকসভা ও বিধানসভায় তৃণমূলের নজিরবিহীন ভাঙন এবং রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে মঙ্গলবার তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল কোলাঘাটে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা তিন জেলার মেগা প্রশাসনিক বৈঠকে আচমকাই হাজির হন ঘাটালের হেভিওয়েট তৃণমূল সাংসদ দেব। দলবদলের এই মরসুমে শুভেন্দুর দরবারে দেবের উপস্থিতি ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই আসরে নেমে সব গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন অভিনেতা-সাংসদ। সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমার ভালবাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব সময় থাকবে।” (Dev reaffirms support for Mamata Banerjee)

প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ঘাটালের সাংসদ। দেব বলেন, “২০১৪ সাল থেকে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আমি লড়াই করছি। ২০২৪ সালেও এই প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। এখন রাজ্যে সরকার বদলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তিনি এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি নিতেই আমি আজ এখানে এসেছিলাম।”

অন্য কোনও রাজনৈতিক শিবিরে বা নতুন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেব বলেন, “আমি এখানে তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই এসেছি। আমাদের জনগণের রায় মানতে হবে। শুভেন্দু অধিকারী যে এখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, তা তো আমি অস্বীকার করতে পারি না। সাংসদ হিসেবে আমার মূল দায়িত্ব হল এই ডবল ইঞ্জিন সরকারের মাধ্যমে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ দ্রুত শেষ করা।”

‘দিদির পাশে আছি, ওঁর সংগ্রামকে শ্রদ্ধা করি’

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের একাংশ যখন দলের অন্দরে বাকস্বাধীনতার অভাব নিয়ে সরব, তখন দেব সম্পূর্ণ উল্টো সুর গাইলেন। তাঁর দাবি, “আমি কোনো দিন বলতে পারব না যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কথা শোনেননি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের অনুমোদনও উনিই দিয়েছিলেন। উনি যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন আমি দিদির পাশে আছি।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে দেব বলেন, “আমি দিদিকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। তবে ২০২৯ সালের (আগামী লোকসভা নির্বাচন) আগে আমার ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করাও জরুরি। আর সেটা করতে গেলে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য প্রয়োজন।”

সৌজন্যের রাজনীতি ও ‘শুভেন্দুদা’ প্রসঙ্গ

বরাবরই কাদা-ছোড়াছুড়ির রাজনীতির বাইরে থাকা দেব আরও একবার নিজের ‘সৌজন্যের রাজনীতি’র চেনা রূপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০১৪ সাল থেকে আপনারা আমাকে সাংসদ হিসেবে দেখছেন। আমি সব সময় সকলকে সম্মান করেছি। যে দলেই থাকি না কেন, কাউকে অপমান করিনি। আমাকে কেউ ‘জয় শ্রী রাম’ বললেও আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরেছি।”

নতুন সরকার গঠন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দেবের জবাব, “যেকোনো নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দেওয়া উচিত। শুভেন্দুদা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। আমরা এক সময়ে একই হেলিকপ্টারে করে উত্তরবঙ্গে প্রচারে যেতাম। দিদি যেমন লড়াই করে উঠে এসেছেন, শুভেন্দুদাও তেমনই সংগ্রাম করে উঠে এসেছেন।” দেবের এই ম্যাচিওর বা পরিণত বয়ান স্পষ্ট করে দিল, ঘাটালের উন্নয়নের স্বার্থে নতুন সরকারের সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে সহযোগিতা করলেও, রাজনৈতিকভাবে তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই বিশ্বস্ত।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *