পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মশলা, রয়েছে কি আপনার হেঁশেলে? - 24 Ghanta Bangla News
Home

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মশলা, রয়েছে কি আপনার হেঁশেলে?

Spread the love

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মশলা হলো এটি। সোনালি-লাল রঙের এই মশলাকে অনেক সময় ‘লাল সোনা’ বলেও ডাকা হয়। আপনার রান্নাঘরে আছে কি এই মশলা?

এই মশালটি হলো জাফরান (Saffron)। বিশ্ববাজারে এক কেজি উচ্চমানের জাফরানের দাম কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর উৎপাদন খুবই সীমিত। সংগ্রহ করতেও প্রচুর পরিশ্রম লাগে বলে দাম এত বেশি।

বিশ্বের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জাফরান উৎপাদিত হয় ইরানে। এ ছাড়া ভারত, স্পেন, গ্রীস এবং মরক্কোতেও এর চাষ হয়।

তবে ভারতের এই মশলার চাষ হয়। ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত জাফরান উৎপাদন অঞ্চল হলো কাশ্মীরের পাম্পোর। এই জায়গাটি ‘ভারতের জাফরান নগরী’ নামে পরিচিত।

জাফরান কিন্তু আসলে একটি বিশেষ ফুল থেকে আসে, যার নাম ‘Crocus sativus’। ফুলের মাঝখানের লাল রঙের সূক্ষ্ম তিনটি স্টিগমা বা রেণুই হল জাফরান। এটিকেই মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

কীভাবে জাফরান চাষ করা হয়? জাফরানের কন্দ বা বাল্ব মাটিতে রোপণ করা হয়। সাধারণত গ্রীষ্মের শেষে এই কন্দ লাগানো হয় এবং শরৎকালে ফুল ফোটে।

জাফরান চাষের জন্য শীতল ও শুষ্ক আবহাওয়া সবচেয়ে উপযোগী। কোনও উঁচু জায়গা এবং যেখানে জলনিষ্কাশন ভালো হয়, এমন মাটি এর উৎপাদনের জন্য আদর্শ।

তবে এই ফুল চাষের চেয়েও বেশি সংগ্রহ করা কঠিন। ফুলগুলি এতটাই আলতো হয়, যে সংগ্রহের সময়ে কোনও যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না। প্রতিটি ফুল থেকে হাতে খুব সতর্কতার সঙ্গে লাল স্টিগমা তুলে নিতে হয়।

প্রায় দেড় থেকে ২ লক্ষ ফুল থেকে মাত্র ১ কেজি শুকনো জাফরান পাওয়া যায়। এই বিশাল পরিমাণ শ্রম ও কম উৎপাদনের কারণেই এর আকাশছোঁয়া দাম।

সাধারণত, খাবারে রং ও সুগন্ধ বাড়াতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। বিরিয়ানি, কাশ্মীরি কাওয়া, মিষ্টি, আইসক্রিম-সহ বিভিন্ন রান্নায় এটি ব্যবহার করা হয়।

রান্না ছাড়াও এটি স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো। জাফরানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও বিভিন্ন উপকারী উপাদান রয়েছে। এটি মানসিক চাপ কমাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে।

এক কেজি জাফরান তৈরি করতে লক্ষাধিক ফুলের প্রয়োজন হয়। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মশলা হিসেবে জাফরানের খ্যাতি আজও অটুট। এর সুগন্ধ, স্বাদ এবং বিরলতাই একে ‘মশলার রাজা’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *