Firhad Hakim: ‘নিধিরাম সর্দার!’ কেন মেয়র পদ থেকে ইস্তফা? প্রশ্ন তোলার আগে নিজেই জবাব দিলেন ফিরহাদ | Firhad Hakim Resigns Before Term Ends, Explains Reason Behind Decision
কলকাতা: দু’দিন চর্চা তুঙ্গে উঠেছিল। বিধায়ক কুণাল ঘোষ গত বুধবার কালীঘাটে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তাতে সম্মতি জানিয়েছেন নেত্রী। সেই পূর্বাভাস সত্য করল ঘটনাপ্রবাহ। শুক্রবার দুপুরে মেয়াদ শেষের ৭ মাস আগেই ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। কিন্তু কেন? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সাংবাদিকদের তরফে সে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ার আগে নিজেই উত্তর দেন।
কী বললেন ফিরহাদ?
ফিরহাদ বললেন, “আমি ইস্তফা দিচ্ছি, তার কারণ আমি কেউ না। যে চেয়ারটায় আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিরা বসেছিলেন, সেই চেয়ারের একটা আলাদা সম্মান রয়েছে। আমি যখন মেয়র ছিলাম, দাপটের সঙ্গে কাজ চালিয়েছি। আমি নিজেই পৌরমন্ত্রী, আমিই মেয়র… সব একাই সামলেছি। প্রচুর মানুষের কথা শুনে ব্যবস্থা নিয়েছি, সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না।” ফিরহাদের কথায়, “তাই আমি এই চেয়ারটাকে আর অবমাননা করতে চাইছি না। এই চেয়ারের সম্মানহানি করব না। চেয়ার ধরে বসে রইলাম। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার, চেয়ার-এই চেয়ারে যাঁরা আগে বসেছিলেন, তাঁদের প্রতি অসম্মান হবে।”
প্রসঙ্গত, এই বিষয়টির আভাস আগে দিয়ে রেখেছিলেন কুণাল। কুণাল বলেছিলেন, “মেয়র ফিরহাদ হাকিম দলনেত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, ইস্তফা দিতে চান। কারণ তিনি কাজ করতে পারছেন না। কাজ করার কোনও পরিস্থিতিই নেই। নবান্নের প্রশাসনিক সভাতেও বলেছেন।”
কিন্তু গত দুদিনের ঘটনাপ্রবাহ কিছুটা তাল কাটছিল। নবান্নে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের বৈঠক, শুক্রবার সকালে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ, স্মিতার তাঁর বাড়ির সামনে যাওয়া- এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ কেমন গুলিয়ে দিচ্ছিল কুণালের দাবি। শেষমেশ জল্পনার অবসান।
২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফিরহাদ। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন।