Srabani Dutta: ‘জননী’ সিরিয়ালের শিল্পী বাধ্য হন চায়ের দোকান খুলতে, ‘সৌজন্যে’ সেই স্বরূপ! | From Glamour to Tea Stall: Tollywood Hair Stylist Recounts Brutal Harassment by Swaroop Biswas
মুখ খুললেন হেয়ার স্টাইলিস্ট শ্রাবণী দত্ত
টলিগঞ্জে ‘একনায়কতন্ত্র’ চালানোর অভিযোগে শ্রীঘরে তৃণমূল নেতা তথা অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। নিউ আলিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার। তোলাবাজি, যৌন হেনস্থা এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় স্বরূপের গ্রেপ্তারি নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই মুখ খুললেন হেয়ার স্টাইলিস্ট শ্রাবণী দত্ত।
বিখ্যাত ‘জননী’ মেগা সিরিয়াল থেকে কাজ শুরু করা এই শিল্পী শোনালেন তাঁর ওপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতনের গল্প। শ্রাবণী জানান, হেয়ার স্টাইলিস্ট গিল্ডের প্রধান ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একবার হেমা মালিনীর ছবির শুটিং শেষ করে ফেরার পরই আচমকা জানতে পারেন, তাঁকে গিল্ড থেকে তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। কারণ হিসাবে তাঁকে বলা হয় সেই ছবির ক্য়ামেরাম্যান ছিলেন নন গিল্ড। কর্মহীন শ্রাবণী যখন গিল্ডের সেক্রেটারির কাছে চিঠির দাবি করেন এবং জানান যে তাঁর মা ভীষণ অসুস্থ, সব কিছু বিক্রি হওয়ার মতো অবস্থা, তখন তাঁকে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অসহায় হয়ে স্বরূপকে ফোন করে কাজের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করতেই ওপার থেকে উত্তর আসে , “আমার চোয়াল ভীষণ শক্ত, তোমার যদি মনে হয় আত্মহত্যা করবে, তুমি করতে পারো।” টানা দু’বছর টলিউডে কোনও কাজ পাননি শ্রাবণী।
শ্রাবণী বলেন তাঁর মা মারা যাওয়ার পর যখন তিনি আবারও নিরুপায় হয়ে স্বরূপের কাছে একটু কাজের জন্য কাকুতি-মিনতি করেন, তখন এই প্রভাবশালী নেতা তাঁকে বলেছিলেন, “তুমি কি তোমার মা-কে লাওয়ারিস লাশের মতো পোড়াবে?”
টানা দু’বছর কাজ না পেয়ে শেষমেশ পেট চালাতে একটি ছোট চায়ের দোকান খোলেন শ্রাবণী। কিন্তু স্বরূপের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা তিন মহিলা সেখানেও থাবা বসায় বলে অভিযোগ তাঁর। দোকান চালানোর জন্য তাঁর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা তোলা চাওয়া হয়। তিনি সেই টাকা দিতে না পারায় জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাঁর রুটিরুজির শেষ আশ্রয়টুকুও।
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা এবং অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে স্বরূপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বহু কলাকুশলীর বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। শ্রাবণীর মতোই তাঁর সহকর্মীও কাজ না পেয়ে আগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শ্রাবণীর দাবি, টলিপাড়ার কেউ স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বা কেস করলেই তাঁদের নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘে ডেকে পাঠিয়ে সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য জোর খাটানো হত।
রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই অবশেষে এই ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে মুখ খোলার সাহস পেয়েছেন শ্রাবণী। তবে এখনও তাঁর মনে আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে। টলিউডের এই অন্ধকার সিন্ডিকেট রাজ যাতে আর কখনও ফিরে না আসে এবং কলাকুশলীরা যাতে শান্তিতে কাজ করতে পারেন, তার জন্য নতুন সরকারের কাছে সুরক্ষার আর্জি জানিয়েছেন এই শিল্পী।