Rudranil Ghosh: কে হতে পারেন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী? বদলাবে টলিউডের হাল? কী বলছেন রুদ্রনীল | Who Will Be Bengal’s New Information & Culture Minister? Rudranil Ghosh Hopes for a Fear Free Tollywood
কলকাতা: তৈরি হয়ে গেল নতুন মন্ত্রিসভা। শপথ নিয়ে ফেলেছেন ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী। তা নিয়ে রাজ্যজোড়া চর্চার মধ্য়েই নয়া মন্ত্রিসভা নিয়ে আশার আলো দেখছেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। একরাশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গেই বলছেন, আমার খুব আনন্দ হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের যাঁরা জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক থেকে পরিচারিকা, তাঁরা দায়িত্ব পেয়েছেন।
এদিকে নাটক-সিনে পাড়াতেই বেড়ে ওঠা রুদ্রনীলের। পরবর্তীতে রাজনীতিতে নাম লেখানোর পরেও সমানতালে চালিয়ে গিয়েছেন সিনেমার কাজও। বিজেপির প্রচারেও রুদ্রনীলের শিল্পকলার ছাপ বরাবরই দেখা গিয়েছে। কিন্তু বিজেপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় কে পেতে পারেন তথ্য-সংস্কৃতি দফতর? কী খবর আছে রুদ্রনীলের কাছে? তিনি যদিও অকপটেই বলছেন, “কোনও আন্দাজ নেই। আন্দাজ করার চেষ্টা করিনি।” তাঁর সাফ কথা, “দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি যিনিই হন না কেন, কাজ হবে। এই দুনিয়া থেকে কেউ এলেই কাজ হবে, না হলে হবে না, এটা মনে করি না। সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেবেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। আমরা প্রত্যেকে চাই, এই সরকার ভয়হীন, ভরসাযুক্ত একটা কাজের পরিবেশ তৈরি করে দিক। সেই পরিবেশ থাকলেই সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উন্নতি হবে।”
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরাজ প্রশংসা করেও তৃণমূলকে একহাত নেন। বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্যের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক এবং সংবেদনশীল। আগের সরকারের আমলে একটা চূড়ান্ত স্বৈরাচার, স্বজনপোষণের মাধ্যমে কলুষিত করা হয়েছিল এই ক্ষেত্রকে। সম্প্রতি আপনারা দেখলেন, শ্রদ্ধেয় পরিচালক অনীক দত্তর আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার যাতে নির্বিঘ্নে তাঁদের মতো করে সব কাজ সম্পন্ন করতে পারে, তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রক যাবতীয় বন্দোবস্ত করেছে, প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।” এরপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন, “এর আগের মুখ্যমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম থেকে সত্যজিত্ রায়কে বিস্মিত করে দিয়ে, একাধারে বহুগুণ সম্পন্ন মানুষ হয়েও শিল্প-সংস্কৃতির দুনিয়াকে ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।”
সুর চড়িয়েছেন তাবেদারি-স্বজনপোষণ নিয়েও। যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কাজ থেকে কোনওভাবেই বঞ্চিত না সেই চেষ্টা যে নতুন সরকার শুরু থেকেই করছে তাও বলেন রুদ্রনীল। আগের সরকারের ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ কাঠামোর যাতে কোনও ছাপ আর না থাকে তার দেখাশোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। রুদ্রনীল বলছেন, “এই সমস্যা আগের সরকার এবং তাদের তাবেদাররা তৈরি করেছিলেন। সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্র, সঙ্গীত-নৃ্ত্যের মতো ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, অবিরত কী ক্ষতি করে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয়ে, তা সকলের জানা। এই সমস্যা কেটে গিয়ে যাতে যোগ্যরা কাজ পান, সেটা শিল্পী-টেকনিশিয়ান থেকে লেখক, যেই হোন না কেন, পরিবেশ যাতে আর স্বৈরতান্ত্রিক না থাকে, তা দেখার জন্য প্রাথমিক দিকে মুখ্যমন্ত্রী সিনেমার জগতের চারজনের উপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমাদের কাজ ছিল, কোথায় কী অন্যায় হয়েছে, সেই সম্পর্কিত তথ্য মন্ত্রকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’ এরপরেই তাঁর সংযোজন, “পরবর্তী ক্ষেত্রে কে দায়িত্ব পাবেন, তা রাজ্য সরকার, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেবেন। তবে এটুকু বলব, যাতে কোনও অরাজকতা, দাদাগিরি যাতে না হয়, সেই ব্যাপারে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সজাগ।”