টাইটানিকও নাকি ডুবেছিল এই কারণেই, সমাধির ভিতরে গেলেই কি মৃত্যু? অভিশাপের মোড়কে জড়ানো মমির রহস্য

মমি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। যুগের পর যুগ ধরে এই মমি, পিরামিড মানুষের মধ্যে একটা আকর্ষণ সৃষ্টি করছে। বহু পর্যটক মিশরে এই পিরামিডের সৌন্দর্য্য দেখতে যান। বিশ্বের অনেক বড় বড় মিউজ়িয়ামে সংরক্ষিত আছে কিছু মমিও। কিন্তু তাও মমি নিয়ে যেন এক অদ্ভুত অজানা খানিকটা ভয় মেশানো কৌতুহলও জড়িত।

আসলে মমি নিয়ে রয়েছে নানা রহস্যময় কাহিনি ও অভিশাপের গল্প, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে মিশরের প্রাচীন ফ্যারাওদের সমাধি আবিষ্কারের পর লোকমুখে নানা কাহিনি প্রচলিত হয়। এগুলিই পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কেউ বলেন, মমির সমাধি খুললেই নাকি হয় মৃত্যু। অনেকে আবার মনে করেন,সমাধির ভিতর থেকে কোনও জিনিস নিলে আসতে পারে ঘোর বিপদ। তবে এই অভিশাপগুলি কতটা সত্য?

তুতানখামেনের অভিশাপ
১৯২২ সালে ফ্যারাও তুতানখামেনের (Tutankhamun) সমাধি খোলার পর অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন অল্প সময়ের মধ্যে মারা যান। এরপর থেকেই ‘ফ্যারাওয়ের অভিশাপ’ কথাটি বিখ্যাত হয়ে ওঠে। যদিও বেশিরভাগ অভিশাপের গল্পের কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই, তবুও এগুলি আজও রহস্যের আবরণে ঢাকা।

সমাধি ভাঙলেই মৃত্যু?
কথিত আছে, অনেক সমাধির দরজায় নাকি লেখা রয়েছে— ‘যে আমার শান্তি নষ্ট করবে, তার উপর নেমে আসবে দুর্ভাগ্য ও মৃত্যু।’ শুধু তাই নয়, তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কারের সময়ে এই অভিযানকে অর্থ সাহায্য করেছিলেন জর্জ হার্বাট, যিনি ছিলেন কার্নারভনের পঞ্চম আর্ল (5th Earl of Carnarvon)। পরিচিত ছিলেন লর্ড কার্নারভন নামে। কিন্তু সমাধি খোলার কয়েক মাস পরেই হঠাৎ তিনি মারা যান। অনেকে এটিকে ফ্যারাওয়ের অভিশাপের ফল বলে মনে করেন।

কায়রো শহরের আলো নিভে যাওয়া
লোকমুখে প্রচলিত, লর্ড কার্নারভনের মৃত্যুর সময়ে নাকি কায়রোর কিছু এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। এই ঘটনাকেও অনেকে এই অভিশাপের সঙ্গে যোগ করেন। এছাড়া, একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি রয়েছে, কিছু মমির ছবি তোলার পর আলোকচিত্রশিল্পীদের সঙ্গে অদ্ভুত সব দুর্ঘটনা ঘটেছিল। অনেকে মারাও যান।

ব্রিটিশ মিউজ়িয়ামের ‘আনলাকি মমি’।
ব্রিটিশ মিউজ়িয়ামে রাখা রয়েছে একটি মমির কফিন। অনেকেই বলেন, এই মমি উদ্ধারের সময়ে বহু দুর্ভাগ্যের গল্প প্রচলিত রয়েছে। তাই একে ‘Unlucky Mummy’ বলা হয়।

টাইটানিকের সঙ্গে মমির গুজব
এমন গুজবও রয়েছে, যে অভিশপ্ত একটি মমি নাকি RMS Titanic-এ ছিল। আর জাহাজটির ডুবে যাওয়ার পিছনে রয়েছে এই মমির অভিশাপ। যদিও এটি সম্পূর্ণই ভুল। উইলিয়াম টি স্টিড নামে ওই জাহাজের এক যাত্রী যাত্রার সময় অন্যান্য যাত্রীদের এই গল্প শোনাতেন। আর তারপরই লোকমুখে এটি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের অসুস্থতা
এমনও বলা হয়, কিছু গবেষক সমাধি খোলার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। যদিও পরে বিজ্ঞানীরা জানান, সমাধির ভিতরের ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত ধূলিকণার কারণে তাঁরা অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন।

অভিশপ্ত গয়না ও ধনসম্পদ
কথিত আছে, মমির সঙ্গে পাওয়া কিছু অলঙ্কার বা ধনসম্পদ বাড়িতে নিয়ে গেলে দুর্ভাগ্য নেমে আসে। সমাধি খোলার পরে অনেকেই মমির ভিতরে থাকা ধনসম্পদ নিয়ে যেতে থাকেন। শোনা যায়, এরপরই অনেকের হঠাৎ মৃত্যু হয়। অনেকে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আজও রহস্যের আকর্ষণ
বিজ্ঞানীরা বেশিরভাগ ঘটনাকে কাকতালীয় বলে ব্যাখ্যা করলেও মমির অভিশাপ আজও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রহস্য হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মমির অভিশাপের সরাসরি কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে প্রাচীন সমাধিতে থাকা জীবাণু, বিষাক্ত ছত্রাক এবং বন্ধ পরিবেশ মানুষের অসুস্থতার কারণ হতে পারে। তবুও মমির অভিশাপের গল্প ইতিহাস, রহস্য ও লোককাহিনির এক আকর্ষণীয় অংশ হয়ে রয়েছে। আজও বহু মানুষ এই অভিশাপকে বিশ্বাস করেন।