দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ, হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক (calcutta high court) উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ সামনে আসার মধ্যেই এবার দক্ষিণ ২৪ …
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক (calcutta high court) উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ সামনে আসার মধ্যেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলার বিষ্ণুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে দল।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বিষ্ণুপুর এলাকায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং দলীয় সম্পত্তির ক্ষতি করে। ঘটনার পরপরই বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে দাবি তৃণমূলের। (calcutta high court) দলের বক্তব্য, অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি তদন্তের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
দলের আইনজীবীদের দাবি, (calcutta high court) একটি গুরুতর অভিযোগের পরেও পুলিশ যদি দ্রুত তদন্ত শুরু না করে কিংবা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মতো রাজনৈতিক দলগুলিও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে পারে। সেই কারণেই আদালতের নজরদারিতে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, এই মামলার শুনানি আগামী ৩ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে। গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চে বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র এজলাসে বিষয়টি উঠতে পারে বলে আদালত সূত্রে খবর। শুনানির সময় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র এবং পরবর্তী পদক্ষেপের অভাব সংক্রান্ত তথ্য আদালতে পেশ করা হতে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্য প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের তরফে কী অবস্থান নেওয়া হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল এবং আইনজীবী মহলের। আদালত তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট তলব করতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।
প্রসঙ্গত, (calcutta high court) বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং কর্মী-সমর্থকদের উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠে এসেছে। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে। ফলে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি দাবি করেছেন, দলের একাধিক নেতা, সাংসদ এবং বিধায়কদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর হেনস্থা সবকিছুই একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, তাঁর কাছে একাধিক বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন যে তাঁদের নানা উপায়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। কোথাও আর্থিক প্রলোভন, কোথাও তদন্তকারী সংস্থার নাম করে চাপ সৃষ্টি, আবার কোথাও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। এসবের উদ্দেশ্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করা এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া বলেও দাবি করেন তিনি।