‘যাত্রী স্বার্থে উচ্ছেদ’, সাফাই রেলের, জারি জোরালো প্রতিবাদও - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘যাত্রী স্বার্থে উচ্ছেদ’, সাফাই রেলের, জারি জোরালো প্রতিবাদও

Spread the love

এই সময়: ফি সন্ধেয় বাড়ি ফেরার সময়ে প্ল্যাটফর্মে দেখা যেত, নানা জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসে আছে হকাররা। পরদিন সেই প্ল্যাটফর্মই যেন অচেনা! লোকাল ট্রেনেই নিত্য যাতায়াত, কাজেই প্ল্যাটফর্মের চেহারাগুলোও চেনা। তা হলে হঠাৎ বদলে গেল কী করে? কারণ, প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন চত্বর থেকে জবরদখলকারী হকারদের হটিয়ে দিচ্ছে রেলরক্ষী বাহিনী। কোথাও রাতের অন্ধকারে, কোথাও দিনদুপুরে। চোখের সামনে বহু বছরের দোকান ভাঙা হচ্ছে দেখেও হা–হুতাশ করা ছাড়া উপায় নেই হকারদের।এতে প্ল্যাটফর্ম, স্টেশন চত্বর ‘সাফসুতরো’ হলেও ওই বিক্রেতাদের পাশাপাশি নিত্যযাত্রীদেরও সমস্যা বেড়েছে। কারণ বাড়ি ফেরার পথে অনেক সময়ে টুকটাক বাজার করা, একটু খাওয়া বা জরুরি জিনিসপত্র তো ওই দোকানগুলো থেকেই কিনতেন তাঁরা। আর হকারদের তো রুজি–রুটি নিয়েই টানাটানি। বামপন্থীরা তো বটেই, বিভিন্ন বিরোধী পক্ষ থেকে হকার উচ্ছেদের সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে পড়েছে রেল।

যদিও অভিযান চলবে বলে জানাচ্ছেন রেলকর্তারা। তাঁরা জানান, শুধু হাওড়া বা শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে নয়, আসানসোল ও মালদা ডিভিশনেও এই অভিযান চলবে। কর্তাদের বক্তব্য, প্ল্যাটফর্ম তো দোকান বা বাজার বসানোর জায়গা নয়। অতীতে বহুবার হকারদের স্টেশন–চত্বর এবং প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাবে প্ল্যাটফর্ম বা স্টেশন–চত্বর খালি করা যায়নি। হকারদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে তীব্র ও আক্রমণাত্মক বিরোধিতার মুখেও পড়তে হয়েছে। কিন্তু বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে রাজ্যের তরফে সহযোগিতা পাওয়ায় এগোচ্ছে কাজ।

রেলকর্তারা জানান, প্ল্যাটফর্মে হকারদের ভিড়ে যাতায়াতের সমস্যা নিয়ে তাঁদের কাছে নিয়মিত বহু অভিযোগ জমা পড়ে। এ বাদে ট্রেনে ওঠা–নামার সময়ে প্ল্যাটফর্মের এমন দোকানের ভিড়ে সমস্যায় পড়া যাত্রীর সংখ্যাও কম নয়। রেলের কাছে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তাই সবচেয়ে জরুরি, তাই অভিযান চলবে।

তবে বিজেপি–বিরোধী দলগুলি বিষয়টিকে এ ভাবে দেখতে নারাজ। সদ্যপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘হকার উচ্ছেদ হচ্ছে। তাঁরা অসহায়। দুর্বল মানুষের উপরে অত্যাচার হচ্ছে। বাংলায় বু‍লডোজ়ার রাজ চলছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের দোকান ভেঙে দেওয়া হলো। মা বোনেরা কাঁদছেন। শিয়ালদহ–সহ বহু জায়গায় এমন হচ্ছে।’ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী আবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি দিয়েছে‍ন। তিনি লিখেছেন — বাংলার বহু সংসার হকারির উপরে নির্ভরশীল। তাই হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাঁদের উৎখাত করার এই কর্মসূচি অত্যন্ত অমানবিক। বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার আবেদনও জানান। অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ করেছে সিটু–নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘অতীতে রেলের সঙ্গে আমাদের বহুবার সংঘাত হয়েছে। আমরা কেউ উন্নয়ন ও যাত্রী–স্বাচ্ছন্দ্যের বিরোধী নই। কিন্তু একই সঙ্গে বারবার বলেছি, হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি ভাবা হোক। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ৪ মে–র (ভোটের ফলপ্রকাশ) পরে দেখছি, রেল অত্যন্ত আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে। আমরা এই আগ্রাসনের বিরোধী।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *