Ancient Indian Hair Care Dhoop: মাথার চুলে ধুপ ধুনো দিয়ে দেখেছেন কখনও? ট্রাই করলেই হবে ম্যাজিক | The Magic of Sambrani Dhoop: The Ayurvedic Story Behind Ancient Indian Hair Care
যোধা আকবর (Jodhaa Akbar) ছবির সেই আইকনিক দৃশ্যটার কথা একবার ভাবুন। রাজকীয় স্নানঘর। সুগন্ধি জলে স্নান সেরে সবেমাত্র বেরিয়েছেন রানি। একরাশ ঘন কালো ভেজা চুল থেকে টুপটুপ করে জল ঝরছে। আর সেই চুল শুকানো হচ্ছে সুগন্ধি ধূপের ধোঁয়ায়। রুপোলি পর্দায় ঐশ্বর্য রাইয়ের (Aishwarya Rai) এই দৃশ্য দেখে অনেকেরই চোখ আটকে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল, রাজাদের যুগে রূপচর্চার ধরনই হয়তো আলাদা! কিন্তু সত্যিই কি তাই? এটি কি শুধুই রাজকীয় বিলাসিতা, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও রহস্য?
ইতিহাসের পাতা উল্টোলে দেখা যাবে, প্রাচীন ভারতে মহিলাদের কাছে এটি ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং দৈনন্দিন এক রুটিন। স্নানের পর চুল শুকাতে তাঁরা যে বিশেষ ধূপ ব্যবহার করতেন, তার নাম সামব্রানি ধূপ (Sambrani Dhoop)। স্টাইরাক্স নামের এক বিশেষ গাছের নির্যাস থেকে তৈরি এই প্রাকৃতিক রজনকে চলতি কথায় লোবানও বলা হয়। এর সোঁদা ও কস্তুরীর মতো সুবাস নিমেষেই চারপাশের পরিবেশ বদলে দেয়।
আয়ুর্বেদ ও ন্যাচারোপ্যাথি বিশেষজ্ঞ ঋত্বিকা জানাচ্ছেন, প্রাচীন কালে স্নানের ঠিক পরমুহূর্তে চুলে ধূপ ব্যবহার করাটা মূলত মন ও শরীরকে শান্ত করার একটি পদ্ধতি ছিল। এই ভেষজ ধোঁয়ার উষ্ণতা শরীরের ‘বাত’ (Vata) দোষ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মানসিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। এককথায়, নেতিবাচক শক্তি দূর করে মনকে সতেজ করে তোলার এটি এক অব্যর্থ দাওয়াই।
তবে কেবল মনের শান্তি নয়, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য এটি আক্ষরিক অর্থেই ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ভেষজ এই ধোঁয়ায়, বিশেষ করে এর সঙ্গে যদি নিম, তুলসী বা গুগগুল মেশানো থাকে, অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাংগাল উপাদান থাকে। যা স্ক্যাল্পে জমে থাকা ময়লা, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ঘামের দুর্গন্ধ নিমেষে গায়েব করে দেয়। যাঁদের খুশকির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি এক প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। ভেজা চুল ধূপের ধোঁয়ায় শুকোলে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ে। ফলে চুলের গোড়া পুষ্টি পায় এবং চুল অনেক বেশি মজবুত হয়।
তবে পদ্ধতিটি যতই মন ভালো করা হোক না কেন, এটি প্রতিদিনের জন্য নয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, মাসে মাত্র একবার বা দু’বার এই ধূপ ব্যবহার করাই যথেষ্ট। কারণ, উপাদান প্রাকৃতিক হলেও নিয়মিত অতিরিক্ত ধোঁয়া ফুসফুসের জন্য কখনও ভালো হতে পারে না। বাড়িতে বসে এই প্রাচীন রূপচর্চা করতে চাইলে খোলা বারান্দায় একটি ধুনুচিতে সামব্রানি জ্বালিয়ে নিন। ধোঁয়া উঠতে শুরু করলে ভেজা চুল অন্তত ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার দূরে রেখে ধোঁয়া লাগান। এরপর আলতো করে চুল আঁচড়ে নিন, এতে ধূপের সুগন্ধ এবং স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল সমানভাবে চুলে ছড়িয়ে পড়বে।