নাম অমলেন্দু, পাচ্ছিলেন বিধবা ভাতা! শুরু তদন্ত - 24 Ghanta Bangla News
Home

নাম অমলেন্দু, পাচ্ছিলেন বিধবা ভাতা! শুরু তদন্ত

Spread the love

এই সময়, খড়্গপুর: ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকের আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট থাকলে হয়তো বলতেন, ‘সেই কবে বলেছিলাম, কী বিচিত্র এই দেশ! তাই বলে, এত বৈচিত্র?’ আর লালমোহন গাঙ্গুলি (জটায়ু) থাকলে নির্ঘাৎ বলতেন, ‘শুধু হাইলি নয়, সিরিয়াসলি সাসপিশাস্‌!’

এ বঙ্গে পালাবদলের পরে একের পর এক এমন সব ঘটনা উঠে আসছে যা দেখেশুনে চোখ কপালে উঠছে অনেকেরই। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাওয়ার কথা ছিল মহিলাদের। অভিযোগ, মাসের পর মাস সেই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন মুর্শিদাবাদের রাকিবুল শেখ, শরিফুল ইসলাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার উত্তমকুমার সাউ। আপাতত তিন জনেই শ্রীঘরে।

এ বার পুরুষ হয়েও বিধবা ভাতা পাওয়ার মতো ‘বেনজির’ ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ভরা সংসার ষাটোর্ধ্ব অমলেন্দুবিকাশ মণ্ডলের। পেশায় তিনি গ্রামীণ চিকিৎসক। অভিযোগ, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ঢুকত বিধবা ভাতা। সেই নথি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে পিংলায়। প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে এক জন পুরুষ বছরের পর বছর বিধবা ভাতা পেয়েছেন!

এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন পিংলার যশোরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা অমলেন্দু। প্রথমে কোনও উত্তর না দিয়ে তিনি ছুড়ে দেন পাল্টা প্রশ্ন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন কেন? যারা দিচ্ছে, তাদের জিজ্ঞাসা করুন। একটা ছোট্ট বিষয় নিয়ে আপনারা মাতামাতি করছেন কেন?’ তাই বলে পুরুষ হয়ে বিধবা ভাতা? মেজাজ সপ্তমে তুলে বৃদ্ধ বলেন, ‘আমি তো বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম। ওরা বিধবা ভাতা দিলে আমি কী করতে পারি?’ কিন্তু সব বুঝেও এতদিন নীরব থাকলেন কেন? সে প্রশ্নের অবশ্য সদুত্তর মেলেনি।

পিংলা ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই বৃদ্ধকে নোটিস পাঠিয়ে ব্লক অফিসে ডাকা হয়েছে। ওই কর্তার কথায়, ‘এ ক্ষেত্রে ওঁকে সব টাকা ফেরত দিতে হবে। কারচুপি ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে।

অমলেন্দুর কমলকান্তি তৃণমূলের বুথ সভাপতি। তিনি অবশ্য বলছেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। দাদা এক জন পুরুষ হয়ে কী ভাবে বিধবা ভাতা পেতে পারেন? এটা তো ঠিক নয়।’ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য আশিস মাইতির দাবি, ‘আমি তো এ সবের কিছুই জানতাম না। এখন শুনছি।’ আর স্থানীয় বিজেপি নেতা পবিত্র মাইতির কথায়, ‘ভেবে দেখুন, তৃণমূলের দুর্নীতি কত গভীরে। পুরুষকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, বিধবা ভাতাও দিয়েছে। সর্বত্রই দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি করেছে। সন্ত্রাসের কারণে মানুষ প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারেনি। এখন ধরা পড়ছে। আমরাও প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছি।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *