নজর কাড়ল সৌমিত্র-ছায়ায় ‘মুখোমুখি’ নাট্যোৎসবের বিভিন্ন নাটক
বিপ্লবকুমার ঘোষ
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মরণে বিলু দত্ত আয়োজন করেছিলেন অ্যাকাডেমিতে পাঁচ দিনের নাট্যোৎসব ‘মুখোমুখি ৩০’। উদ্বোধনের দিনে এ বার মানু দত্ত স্মৃতি সম্মান পেলেন আলোকশিল্পী বাদল দাস। এ ছাড়াও সংস্থার তরফ থেকে সম্মাননা জানানো হলো সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গৌতম ঘোষ, দেবশঙ্কর হালদার, দিব্যেন্দু পাল, শ্রীকান্ত আচার্য, সুনীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমীর আইচ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, কাকলি চৌধুরী, তনুশ্রী শঙ্কর, গৌতম সরকার।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন এই সংস্থার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এই উৎসবে তাই দর্শকদের কাছে বড় আকর্ষণ ছিল ‘মুখোমুখি’–র নতুন প্রযোজনা, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা নাটক ‘প্রতারণা’। যেখানে নির্দেশকের ভূমিকায় চূড়ান্ত সফল হয়েছেন পৌলমী চট্টোপাধ্যায়। দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন সুদীপ মুখোপাধ্যায়, পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। তবে উৎসবের শুরু বুদ্ধদেব বসুর ‘প্রথম পার্থ’ নাটকটি দিয়ে। ‘সংসৃতি’র এই প্রযোজনাটির নির্দেশক ছিলেন দেবেশ চট্টৌপাধ্যায়। নাটকটির বড় সম্পদ অসাধারণ অভিনয় ও মঞ্চায়ন। কলাকুশলীদের মধ্যে রয়েছেন অর্ণ মুখোপাধ্যায়, অভ্র মুখোপাধ্যায়, শ্যামাশিস পাহাড়ি, তূর্ণা দাস, সেঁজুতি মুখোপাধ্যায় আর রজতাভ দত্ত।

সৌরভ পালোধীকে দর্শকরা স্বতঃস্ফূর্ত অভিনন্দন জানিয়েছেন, কারণ এই উৎসবে রাহুলের মূল গল্পকে ফের তুলে এনে দর্শকদের আবেগকে নাড়িয়ে দিতে পেরেছেন তিনি। সৌরভের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হলো ‘যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল’। এ ছাড়াও উৎসবে আমন্ত্রিত নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে, দিব্যেন্দু পালের ‘ব্রিটিশবাবু’, দেবাশিস রায়ের ‘ফেরারি ফৌজ’, পূর্ব পশ্চিমের প্রযোজনা ‘আ-শক্তি’, অরুণ মুখোপাধ্যায়ের ‘মারীচ সংবাদ’, সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘টিনের তলোয়ার’, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বজ্রনির্ঘোষ’।
পুরো উৎসবটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিলু দত্ত।