মণিপুরে চরম অশান্তির মধ্যেই নয়াদিল্লিতে গ্রেফতার জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডার দিলীপ - 24 Ghanta Bangla News
Home

মণিপুরে চরম অশান্তির মধ্যেই নয়াদিল্লিতে গ্রেফতার জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডার দিলীপ

Spread the love

ইম্ফল: উত্তপ্ত মণিপুরে চলতে থাকা জাতিগত সংঘাত ও জিম্মি সংকটের আবহের মধ্যেই বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী (KCP leader)। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (KCP)-র শীর্ষ কমান্ডার …

ইম্ফল: উত্তপ্ত মণিপুরে চলতে থাকা জাতিগত সংঘাত ও জিম্মি সংকটের আবহের মধ্যেই বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী (KCP leader)। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (KCP)-র শীর্ষ কমান্ডার হাওবিজিয়াম দিলীপ সিংকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারের পর তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মণিপুরে চালানো অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। গোটা ঘটনায় উত্তর-পূর্ব ভারতে বড় ধরনের নাশকতার ছক বানচাল হয়েছে বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল, মণিপুর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে রাজধানীর এক গোপন আস্তানা থেকে ধরা হয় হাওবিজিয়াম দিলীপ সিংকে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি একটি অত্যন্ত গোপন বৈঠকে যোগ দিতেই দিল্লিতে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে ছিলেন। ভারতের কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ-র আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও দেখুনঃ পাহাড়ে বর্ষা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর

নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, দিলীপ সিং শুধু সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা নন, বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন নাশকতামূলক কার্যকলাপের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেও পরিচিত। ফলে তাঁর গ্রেফতারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতারের পর দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। সেই জেরায় উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মণিপুরের কাকচিং জেলায় শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। নিরাপত্তা বাহিনী সেখান থেকে প্রায় ২ হাজার রাউন্ড তাজা গুলি, AK-56 এবং M4 রাইফেল, ৫১টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন HE বোমা, ডেটোনেটর এবং একাধিক যুদ্ধ সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রভাণ্ডারের পরিমাণ দেখে হতবাক তদন্তকারীরা। তাঁদের অনুমান, এত বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক কোনও বড় ধরনের হামলা বা দীর্ঘমেয়াদি সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযান না হলে উত্তর-পূর্ব ভারতে বড়সড় নাশকতা ঘটতে পারত।

এই পুরো ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন মণিপুরে ফের নতুন করে জাতিগত উত্তেজনা মাথাচাড়া দিয়েছে। কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত, অপহরণ এবং জিম্মি সংকট ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সম্প্রতি ৬ জন নাগা নাগরিককে অপহরণের অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ ছড়ায়।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী উখরুল ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক combing operation চালানোর নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যেই অপহরণ কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই উপত্যকা-ভিত্তিক মেইতেই জঙ্গি সংগঠন KCP-র শীর্ষ নেতার গ্রেফতারকর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের মতে, মণিপুরের অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি এবং অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দিল্লি থেকে এই ধরনের শীর্ষ জঙ্গি নেতার গ্রেফতার প্রমাণ করে যে উত্তর-পূর্ব ভারতের অশান্তি এখন জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফলে আগামী দিনে আরও কড়া নজরদারি এবং সমন্বিত অভিযান চালাতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। বর্তমানে ধৃত KCP নেতাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, তাঁর সঙ্গে অন্য কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক বা চোরাচালান চক্রের যোগাযোগ ছিল কিনা।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *