বঙ্গে বিজেপি দাওয়াইতে রোজ পুশব্যাক ৭০-৮০ অনুপ্রবেশকারী
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃশ্যপট বদলে গিয়েছে। (infiltrators pushback)বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি বাস্তবায়নে জোরদার অভিযান শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের …
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃশ্যপট বদলে গিয়েছে। (infiltrators pushback)বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি বাস্তবায়নে জোরদার অভিযান শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর পদক্ষেপে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নতুন তিনটি হোল্ডিং সেন্টার খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন।
সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন, অন্যদিকে যারা দীর্ঘদিন ধরে জাল কাগজপত্র নিয়ে রয়েছেন, তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মালদা, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে। যাদের কাছে জাল রেশন কার্ড, আধার কার্ড কিংবা ভোটার আইডি রয়েছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
আরও দেখুনঃ ভোট-পরবর্তী উস্কানি বিতর্কে স্বস্তি পরমব্রতের! চার সপ্তাহের রক্ষাকবচ দিল হাই কোর্ট
প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কোনো জালিয়াতি এবার আর চলবে না।মালদা জেলায় প্রথম হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে রাখা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের লালগোলায় আরেকটি সেন্টারে দ্বিতীয় তলায় স্থানীয় একটি ভবনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি নতুন সেন্টারও প্রস্তুত হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এমন সেন্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ বিদেশিদের চিহ্নিত করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো।হাকিমপুর সীমান্ত চেকপোস্টে গত কয়েকদিন ধরে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে সীমান্তের দিকে ছুটছেন। তাঁদের মধ্যে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে থেকে কাজ করছিলেন, তাঁরা বলছেন, “এখন আর থাকা যাচ্ছে না। কাজ নেই, চাপ বাড়ছে।” কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সংশোধনীতে বেশ কয়েক লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায়।এই অভিযানের মাঝে তৃণমূল নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মাঠে তাঁদের দেখা যাচ্ছে না। যেখানে আগে এই ধরনের ইস্যুতে সরব হতেন, সেখানে এখন নীরবতা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলছে। ভোটের রাজনীতির জন্যই অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।