আনসিকিওরড লোন ডিফল্টার বৃদ্ধির আশঙ্কা, ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বাড়ছে দুশ্চিন্তা - 24 Ghanta Bangla News
Home

আনসিকিওরড লোন ডিফল্টার বৃদ্ধির আশঙ্কা, ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

Spread the love

এই সময়: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা এবং তার জেরে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি আগামী দিনে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার উপরে আশঙ্কার মেঘ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করল আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিজ়। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এশিয়া-প্যাসিফিক দেশগুলির মধ্যে ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলি তুলনামূলক ভাবে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর কারণ হিসেবে ভারতীয় অর্থনীতির পশ্চিম এশিয়ার দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উপরে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে দায়ী করা হয়েছে।

মুডিজ়-এর মতে, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় ধরে উপরের দিকে থাকলে তার সরাসরি প্রভাব মূল্যবৃদ্ধি, সুদের হার এবং ঋণগ্রহীতাদের নগদের জোগানের উপরে পড়বে। ফলে ব্যাঙ্কগুলির ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। দেশের সাধারণ পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে ঋণের চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানির চড়া দাম মানুষের দৈনন্দিন খরচ বাড়িয়ে দেবে, ফলে ঋণের কিস্তি মেটানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করেছে রেটিং সংস্থাটি।

মুডিজ় জানিয়েছে, তাদের নতুন কেন্দ্রীয় পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা হলে বছরের একটা বড় সময়জুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর ব্যারেলপিছু ৯০ থেকে ১১০ ডলারে মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। এর ফলে জ্বালানি আমদানির উপরে নির্ভরশীল অর্থনীতিগুলির আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

ভারতের নন-ব্যাঙ্কিং ফিনানশিয়াল কোম্পানিগুলির (এনবিএফসি) আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুডিজ়। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ, এই প্রতিষ্ঠানগুলির বড় অংশ আনসিকিওরড লোন দিয়ে বসে রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে, এই ক্ষেত্রে খেলাপির ঝুঁকিও দ্রুত বাড়তে পারে এবং এনবিএফসিগুলির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাদের দাবি।

যদিও কৃষি খাতে ভারতের ব্যাঙ্কগুলি যে ঋণ দিয়েছে তা মার যাবে না বলেই জানিয়েছে মুডিজ়। পর্যাপ্ত সার মজুত থাকায় আমদানি খরচের ধাক্কা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও ডিজ়েলের দাম বাড়লে কৃষকদের আয় ও লিক্যুইডিটির উপরে চাপ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছে রেটিং সংস্থাটি।

যদিও সার্বিক ভাবে ভারতীয় ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে নেই বলেই দাবি করা হয়েছে। মুডিজ় জানিয়েছে, ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে মোটা অঙ্কের মূলধন ও অনাদায়ী ঋণ খাতে সরিয়ে রাখার মতো পর্যাপ্ত অর্থ মজুত রয়েছে। ফলে ঋণ দেওয়ার পরে তা আদায় না হওয়ায় যে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে তা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।

মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন কারেন্সির নিরিখে টাকার ভ্যালুয়েশনে ক্ষতি রুখতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি। সে ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির তহবিল সংগ্রহের খরচ আরও বাড়বে এবং ঋণের গুণগত মানের উপরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলেই মুডিজ়-এর দাবি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *