১ মাসে সীমান্তের ১৪২.৭৯ একর জমি BSF র হাতে তুলে দিয়ে নজির বাংলার ডবল ইঞ্জিনের - 24 Ghanta Bangla News
Home

১ মাসে সীমান্তের ১৪২.৭৯ একর জমি BSF র হাতে তুলে দিয়ে নজির বাংলার ডবল ইঞ্জিনের

Spread the love

কলকাতা: সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ( Land Handover)বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একাধিক জেলায় BSF-এর জন্য অতিরিক্ত জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। রাজ্য সরকারের …

কলকাতা: সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ( Land Handover)বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একাধিক জেলায় BSF-এর জন্য অতিরিক্ত জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১৪২.৭৯ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দিয়ে নজির গড়ল শুভেন্দু সরকার। এই জমিতে নতুন সীমান্ত চৌকি, বার্বড-ওয়্যার ফেন্সিং এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।

নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেই বৈঠক থেকেই ৪৫ দিনের মধ্যে মোট ৬০০ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আরও দেখুনঃ বুধে যোগ দিচ্ছেন আরও দুই, ইউনিটি কাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকলেন কারা?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৩৮.৮০৫ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জলপাইগুড়ি, যেখানে ৩৫.১৬৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারে ২২.৯৫ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর এবং মালদায় ১০.৯০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

এছাড়াও দার্জিলিংয়ে ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর, উত্তর ২৪ পরগনায় ২.৬ একর এবং নদিয়ায় ০.৫৫ একর জমি BSF-কে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা পরিকাঠামো উন্নত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় বেআইনি অনুপ্রবেশ, পাচার এবং সীমান্ত অপরাধ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে গবাদি পশু পাচার, মাদক পাচার, জাল নোট এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে আরও শক্তিশালী নজরদারি প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই BSF-এর জন্য নতুন আউটপোস্ট এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যেসব এলাকায় জমি হস্তান্তর করা হয়েছে, সেখানে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সীমান্ত চৌকি তৈরি হলে টহলদারি বাড়বে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল। তবে নতুন সরকারের এই উদ্যোগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়বে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, সীমান্ত এলাকায় আরও দ্রুত পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও এই উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নতুন BSF ক্যাম্প এবং কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হলে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়বে এবং পাচার বা অপরাধ কমবে। তবে কিছু মানুষের উদ্বেগ, জমি অধিগ্রহণের ফলে স্থানীয় কৃষিজমির উপর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল সীমান্তগুলির মধ্যে একটি। পশ্চিমবঙ্গের বহু জেলা সরাসরি আন্তর্জাতিক সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্য সরকারের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বার্থও মাথায় রেখে কাজ করা হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরও জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এখন নজর থাকবে, ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূরণ হয় কি না।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *