Kalyan Banerjee on Kakali: ‘ও প্রচুর গালাগাল দেয়’, ‘দস্তির দ্বার’ খুলে দিতে বলে চাঁচাছোলা ভাষায় তোপ কল্যাণের | Kalyan Banerjee says Kakali Ghosh Dastidar makes derogatory comments not him
নয়া দিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ায় তরজা চলছিলই। এবার সেটা একেবারে প্রকাশ্যে এসে গেল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একেবারে খোলা গলায়, সরাসরি বারাসতের কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। নাম না করে নিশানা নয়, বরং কাকলির বিরুদ্ধে লাগামহীন অভিযোগ তুলতে শোনা গেল শ্রীরামপুরের সাংসদকে।
সম্প্রতি দলের সব পদে ইস্তফা দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভার মুখ্য সচেতন পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে কল্যাণকে বসানোর পরই এই সিদ্ধান্ত বলে চর্চা হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পদত্যাগ করার পর বিভিন্ন মাধ্যমে তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে সরব হচ্ছেন কাকলি। সরব হচ্ছেন দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। তিনি মহিলা সাংসদদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন কাকলির বিরুদ্ধে। এবার চাঁচাছোলা ভাষায় কাকলিকে জবাব দিলেন কল্যাণ।
‘কাকলি দুর্নীতির মহারানি’
সরাসরি নারদ মামলা নিয়ে তোপ দেগে কল্যাণ বলেন, “পাঁচ লাখ টাকা সবার সামনে নিয়েছে নারদায়। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মহারানি উনি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার দুর্নীতি করে কী করে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কথা বলে।”
কল্যাণের দাবি, মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেননি। হাউজে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না বলেও দাবি করেছেন সাংসদ। তিনি বলেন, “অনেক সময় আমি আর মহুয়া একসঙ্গে নেমেছি। কিছু বললে বলত, আমার কাছে ইনস্ট্রাকশন নেই।”
‘দিদির সামনে ভালো মেয়ে সেজে থাকত’
কাকলি ঘোষ দস্তিদার সম্প্রতি অভিযোগ জানিয়েছেন, দলের অন্দরে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে গেলেও তাঁর কথা শোনা হয়নি, এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন ধরেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিযোগ মানতে নারাজ কল্যাণ। তিনি বলেন, “দিদি কাউকে কথা বলতে দেয়নি, এ কথা মানতে পারব না। এখন অন্য কারও কাছে ভালো সাজার জন্য এসব বলছে। তখন দিদির সামনে ভালো মেয়ে সেজে থাকত। তখন শাড়ি নিয়ে প্রশংসা করত।”
‘প্রচুর গালাগাল দেন, মহিলার মুখে এরকম কথা শোনা যায় না’
নারী বিদ্বেষী বলে কল্যাণের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন কাকলি। সংসদে মহিলা সহকর্মীদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলেন বলেও কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ বারাসতের সাংসদের। কিন্তু কল্যাণের গলায় পাল্টা অভিযোগ। তাঁর দাবি, কাকলির মুখেই শোনা যায় কু-কথা।
কল্যাণ এদিন বলেন, “আমি এত খারাপ লোক তো, আমাকে ২০২৪-এ নির্বাচনে প্রচারের জন্য ডাকল কেন? মুশকিল হল, আমি গ্রাম বাংলায় পড়া ছেলে। তাই আমাকে নিয়ে যা ইচ্ছা বলা যায়। আমাকে নারী বিদ্বেষী বলছে, আর যে পুরুষকে নিয়ে রেগুলার কথা বলে সেই মহিলা কেমন?” কল্যাণের দাবি, “কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রচুর গালাগাল দেন, মহিলার মুখে এরকম কথা শোনা যায় না।” এমনকী সংসদে দাঁড়িয়ে বিজেপি সাংসদকে ডেকে কল্যাণের সম্পর্কে কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ কাকলির বিরুদ্ধে।
সব শেষে কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, “দস্তির দ্বার খুলে দাও। তবেই না পদবীর দাম থাকবে।” কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দলবদলের জল্পনা যখন মাথাচাড়া দিয়েছে, তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বার্তা, “এখন শমীক ভট্টাচার্য ঠিক করুন, কে ভালো তৃণমূল, কে খারাপ তৃণমূল।”