জাহাঙ্গিরের জামানত জপ্ত হতেই উৎসব ফলতায়
এই সময়, ফলতা: গত মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর আগাম ঘোষণা করেছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। রবিবার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল। ‘পুষ্পা’হীন ফলতায় এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। তৃণমূলকে চতুর্থ স্থানে ঠেলে দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুর্মি। তৃতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার থেকেও কম ভোট পেয়ে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল হতেই ফলতাজুড়ে তৃণমূল ও জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে শুরু হয় বিক্ষোভ। ভাঙচুর চলে দলীয় কার্যালয়েও। আতঙ্কে কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে বাড়িতে ফেরানো হলেও খুব একটা বাইরে দেখা যায়নি জাহাঙ্গিরকে। সূত্রের খবর, পুনর্নির্বাচনের আগে তাঁর বহু কর্মী-সমর্থকও সরে দাঁড়ান। বাধ্য হয়ে ভোট প্রচারের শেষ দিন ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন জাহাঙ্গির।
রবিবার সকাল থেকেই ভোটের ফল ছিল স্পষ্ট। প্রশাসন সূত্রে খবর, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণনা কেন্দ্রে গণনার জন্য মোট ১৯টি টেবিল রাখা ছিল। ২২ রাউন্ডে ভোট গণনা শেষ হয়। গত বৃহস্পতিবার ফলতার পুনর্নির্বাচনে কোনও বুথেই তৃণমূলের এজেন্টদের দেখা মেলেনি। ভোট দেননি জাহাঙ্গির নিজেও। তৃণমূলের অন্দরের খবর, এ দিন ভোটের গণনায় বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের প্রার্থী এবং এজেন্টরা থাকলেও ঢুকতে দেখা যায়নি তৃণমূলের কোনও এজেন্টকে। গণনা কেন্দ্রে আসেননি তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির।
এ দিন সকাল থেকেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণনা কেন্দ্রের সামনে আবির খেলায় মাতেন বিজেপি কর্মীরা। বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় লাড্ডু বিতরণ। বিজেপি কর্মী সৌমেন দাস ও সৌরভ কুঁতিরা বলেন, ‘মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছে। তাই জাহাঙ্গিরের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ফলতায় এখন শান্তি বিরাজ করছে।’ জয়ী প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বলেন, ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে। মানুষ তৃণমূলকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এই জয়ের পরে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।’
সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুর্মি বলেন, ‘আমরা জিততে পারিনি ঠিকই। কিন্তু বহু মানুষ আমাদের সমর্থন জানিয়েছেন।’ কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘আমরা সমান তালে লড়াই করেছি। তৃণমূল নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে আমরা আরও ভালো ফল করব।’