মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্যে গমগম করছে 'রবিদা'র ডন টেলার্স - 24 Ghanta Bangla News
Home

মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্যে গমগম করছে 'রবিদা'র ডন টেলার্স

Spread the love

সোমনাথ মাইতি, কাঁথি

কপালে গেরুয়া তিলক। পরনে গেরুয়া ফতুয়া আর দুধে–আলতা পাড় সাদা ধুতি। এমন পোশাকে গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এটুকু কম–বেশি প্রায় সকলেরই জানা।

কিন্তু, এটা কি জানেন যে, ওই গেরুয়া ফতুয়ার ছোট্ট টুকরো একজন পরম যত্নে রেখে দিয়েছেন সারা জীবনের স্মৃতি হিসেবে? আসুন, তাঁর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি ‘রবিদা’। আর মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কাছে স্নেহের ‘বুবাই’।

কাঁথি শহরের ব্রহ্মতলায় রাস্তার পাশেই রয়েছে আটপৌরে একটি দর্জির দোকান— ‘ডন টেলার্স’। সেই দোকানের মালিক ‘রবিদা’। রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী। শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে ক্যানাল পাড় যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে ঝকঝকে শপিং মল, শো–রুমের ভিড়ে সেই দোকান প্রায় নজরে পড়ে না বললেই চলে।

বাইরে ঝুলছে একটি সাদামাটা সাইনবোর্ড। ঘুপচি দোকানের সামনে রয়েছে কাপড় কাটার টেবিল। দেওয়ালে ঝুলছে সদ্য তৈরি হওয়া পোশাক। আর তার ঠিক পাশেই রয়েছে রাউন্ড ফ্রেমে বাঁধানো মুখ্যমন্ত্রীর কলেজ জীবনের একটা ছবি। শুধু মুখটুকু। গত ৯ মে–র পর থেকে আড়ালে থাকা সেই ‘ডন টেলার্স’–এ এখন ভিড় বেড়েছে। সৌজন্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! ‘রবিদা’র দাবি, গত প্রায় চার দশক ধরে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পোশাক তৈরি করছেন। যে গেরুয়া ফতুয়া পরে তিনি শপথ নিয়েছেন সেটাও তাঁরই তৈরি।

বছর ৬০–এর রবীন্দ্রনাথ জানাচ্ছেন, স্কুলে পড়ার সময়ে জামা–প্যান্ট পরলেও মুখ্যমন্ত্রীর বরাবরের পছন্দ পাঞ্জাবি। সাদা খদ্দর বা সুতির কাপড়ের তৈরি পাঞ্জাবি ও ফতুয়া পরতেই ভালোবাসেন। তাঁর কথায়, ‘এত বড় হয়ে যাওয়ার পরেও বুবাই কিন্তু আমাকে ভুলে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যে গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে ও শপথ নিয়েছে সেটা আমার হাতেই তৈরি। এটা আমার কাছে বিরাট প্রাপ্তি। তাই ওই কাপড়ের বাড়তি একটি টুকরো নিজের কাছে স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছি।’ রবীন্দ্রনাথের বাড়ি কাঁথির চাঁদবেড়িয়ায়। কাজ শিখেছেন বাবার কাছে। বাবার মৃত্যুর পরে তিনি একাই সব কাজ সামলান। তাঁর কথায়, ‘বুবাই ছোট থেকেই রামকৃষ্ণ মিশনে যায়। সেখানে যাওয়ার পথেই আমাকে কাপড় ও পোশাকের মাপ দিয়ে যেত। ওর অন্য ভাইয়েরাও আমার কাছেই পোশাক তৈরি করে।’

তবে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে দোকানে যে ভিড় বেড়েছে তা কবুল করছেন রবীন্দ্রনাথও। তিনি বলছেন, ‘গত কয়েক দশকে রেডিমেডের চাহিদা বাড়ায় আমাদের মতো বহু দোকানেই ভিড় কমেছে। এখন বুবাইয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অনেকেই ভিড় করছেন। তবে সব অর্ডার নিচ্ছি না। বয়স বাড়ছে। একা হাতে এত চাপ নিতে পারব না। তবে হ্যাঁ, যতদিন বেঁচে থাকব, বুবাইয়ের পোশাক তৈরি করে দেবো।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *