‘বোমার ভাষাতেই কথা হবে’, সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প, পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের দামামা
ইরানের প্রথম দফার শান্তি প্রস্তাবকে ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে খারিজ করে দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তেহরান। কিন্তু সেটাও পছন্দ হয়নি ট্রাম্পের। সেখানে একই কথা নাকি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লেখা হয়েছে। এর পরেই হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আমেরিকান সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস একটি রিপোর্টে দাবি করেছে, ‘ইরান যদি নিজেদের অবস্থান না বদলায়, তা হলে ফের হামলা শুরু করতে পারে আমেরিকা।’
হোয়াইট হাউসের মতে, ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব হুবহু আগের খসড়ার মতোই। বদল খুব সামান্যই। ফলে সেটাকে খুব একটা অর্থবহ অগ্রগতি বলে মনে করছে না আমেরিকা। অ্যাক্সিওসের ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরুর কথা চিন্তাভাবনা করছেন ট্রাম্প। এই নিয়ে আগামী কাল, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ সামরিক শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন তিনি।
শুধু অ্যাক্সিওস নয়, একটি প্রতিবেদনে ফের যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস-ও। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত রুদ্ধ হয়ে যাওযায় যুদ্ধের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলে লেখা হয়েছে তাতে। এই প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্তা বলেছেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। ইরানকে ইতিবাচক হতেই হবে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন।’ তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘না হলে বোমার ভাষাতেই কথা বলবে আমেরিকা।’
সংশোধিত ১৪ দফা প্রস্তাবে ইরান ঠিক কী বলেছে, তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে একাধিক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে কথা দিয়েছে আমেরিকাকে। কিন্তু মজুত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি তারা। এতেই আপত্তি রয়েছে হোয়াইট হাউসের। অন্য দিকে, ইরানের দাবি, বিদেশে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি ছাড়তে এবং তেলের উপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে নাকি আমেরিকা রাজি হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটনের বক্তব্য, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে কোনও নিষেধাজ্ঞাই তোলা হবে না।
এর মধ্যেই ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে। খুব দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। না হলে হারানোর মতো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ এই পোস্টে সময়ের উপরে বিশেষ জোর দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। বার বার বলেছেন, ‘সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘড়ির কাঁটা এগোচ্ছে।’