গোহত্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে সরকার! শুভেন্দুকে চিঠি অধীরের
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা ‘অ্যানিম্যাল স্লটার গাইডলাইন’ ঘিরে এবার সরব হলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, গত …
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা ‘অ্যানিম্যাল স্লটার গাইডলাইন’ ঘিরে এবার সরব হলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, গত ১৩ মে প্রকাশিত এই নির্দেশিকা বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিভ্রান্তি ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্য, বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির সহাবস্থানের রাজ্যে এই ধরনের নির্দেশিকা সংবেদনশীল পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চিঠিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই বহুত্ববাদী সংস্কৃতির রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে চলেন। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে পশু জবাই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ দীর্ঘদিনের কাটমানি! আমতায় তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত নেতার বাড়ি ভাংচুর করল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী
কংগ্রেস নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনের উচিত এমন ব্যবস্থা নেওয়া যাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি পালন করতে পারেন এবং একই সঙ্গে আইনও মেনে চলা হয়। সেই কারণেই তিনি মুর্শিদাবাদের মতো এলাকায় নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায় নিজেদের প্রথা অনুযায়ী পশু জবাই সংক্রান্ত কাজ করতে পারবেন। তাঁর মতে, এতে অযথা বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা অনেকটাই কমবে।
অধীর রঞ্জন চিঠিতে আরও বলেন, এই ধরনের নির্দিষ্ট স্থান শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রথা পালনের জন্য ব্যবহার করা উচিত। এতে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও অস্বস্তি কমবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে বলেন, মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত দূর করা জরুরি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পশু জবাই এবং ধর্মীয় রীতি নিয়ে বাংলার রাজনীতি বরাবরই অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ‘অ্যানিম্যাল স্লটার গাইডলাইন’ নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই ধরনের নির্দেশিকা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদের স্থানীয় মানুষের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ মনে করছেন, পরিষ্কারভাবে নিয়ম ব্যাখ্যা না হওয়ার কারণেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ধর্মীয় রীতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই চিঠি শুধু প্রশাসনিক আবেদন নয়, এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ও সামাজিক ইস্যুগুলি বাংলার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের বিষয় দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিতে পারে।